অন্যান্য
সংস্কৃতি ও বিনোদন
মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য পোস্টার নকশা প্রণয়ন কর্মশালা
প্রতিবারের মত চলতি বছরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদসহ দেশ ও বিদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে অভিন্ন প্রতিপাদ্য ও নকশায় পোস্টার দেয়া হবে।

সে লক্ষ্যে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা গবেষণা ও প্রসার কেন্দ্র' পোস্টার নকশা প্রণয়নের কর্মশালা শুরু হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরু থেকে পোস্টার প্রণয়নে যুক্ত শিল্পী তরুণ ঘোষের পরিচালনায় 'মঙ্গল শোভাযাত্রা-১৪৩১' এর পোস্টার প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালা ছাড়াও উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে শিল্পীরা পোস্টারের জন্য বিভিন্ন নকশা জমা দিয়েছেন। কর্মশালা ও উন্মুক্ত আহ্বান থেকে পাওয়া নকশা থেকে একটি নকশাকে মুদ্রণের জন্য নির্বাচন করা হবে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। 'লোক অলংকরণ ও মোটিফ' এবং 'বাংলাদেশের লোকজন শিল্পের মোটিফ: সরা চিত্র, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য' বিষয়ে প্রামাণ্য উপস্থাপন করেন দুই লোকজ গবেষক চন্দ্রশেখর সাহা ও ইমরান উজ-জামান।

মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য পোস্টারের ছবি আঁকছেন শিল্পীরা। ছবি: এখন টিভি

প্রসার কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমেদ মিঠু এবং গবেষণা ও প্রসার বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হাসান লিটু জানান, আজ (বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ) কর্মশালার শেষ দিন। আগামীকাল শুক্রবার (২৯ মার্চ) চূড়ান্ত পোস্টার নকশা জমা নেয়া ও নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন হবে। এবং শনিবার (৩০ মার্চ) পোস্টার ছাপার কাজ সম্পন্ন করে সর্বত্র পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে।

১৪২০ বঙ্গাব্দ থেকেই পোস্টার নকশা প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের কাজটি করে আসছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা গবেষণা ও প্রসার কেন্দ্র'। যার মূল উদ্দেশ্য, সারা পৃথিবীর সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষের একটি অভিন্ন পোস্টার ও শ্লোগানে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা।

এ বছরের মঙ্গল শোভাযাত্রা মূল প্রতিপাদ্য 'আমরা তো তিমির বিনাশী'। কবি জীবনানন্দ দাসের 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থের 'তিমির হননের গান' কবিতার শেষ পঙ্কক্তিটি নিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে।

আগামী বছর যেন সুখে, আনন্দে, উৎযাপনে এবং মঙ্গলে কাটে এই হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রত্যাশা। কাজেই সেই বাংলা ১৩৯৬ সাল থেকে জাতির নানা চড়াই-উৎরাই ও ক্রান্তিকাল পার করে জাতি তথা জগতের মঙ্গল কামনায় উদযাপন হতে যাচ্ছে ১৪৩১ সালের মঙ্গল শোভাযাত্রা সহযোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

অনলাইনে উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছেন ২৫ জন শিল্পী। বুধবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটির শিল্প গ্যালারীতে কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রসার কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারক আলভী।

এমএসআরএস