দেশে এখন
মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যে মুনাফা বঞ্চিত কলা চাষিরা
রমজান মাসজুড়ে চাহিদার শীর্ষে থাকে কলা। ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ে সব ধরনের কলার দাম। তাই এই সময়কে টার্গেট করে কলা উৎপাদন করেন চুয়াডাঙ্গার প্রান্তিক চাষিরা। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কোণঠাসা উৎপাদক ও ভোক্তা শ্রেণি। দফায় দফায় দাম বাড়লেও মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।

চুয়াডাঙ্গার দশমাইল বাজারের কলার হাটে সপ্তাহে দু'দিন বসা হাটে বেচাকেনা চলে ভোর থেকে। পরে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায় কলা। প্রতি সপ্তাহে এখানে অন্তত কোটি টাকার লেনদেন হয়।

রমজানের কারণে এবার এখানে সরবরাহ বেশি হলেও কলার দামে রয়েছে বড় পার্থক্য। কয়েক হাত বদলেই বাড়ে প্রতি পিস কলার দাম। চাষিরা বলছেন, এই হাটে সব থেকে ভালো কলার কাঁদি প্রতি দাম ৮০০ টাকা। তবে ভোক্তা পর্যায়ে সেই কলা মিলছে তিন থেকে চারগুণ দামে। আর এ জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দুষছেন তারা।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, 'এখান থেকে তিন হাত বদল হয়ে ঢাকাতে যাবে। ঢাকাতেও হাত বদল হয়। এর মধ্যে দিয়ে দাম বেড়ে যায় কলার। এভাবে আমরা এখানে এক টাকা পিস কলা বিক্রি করলে ঢাকায় হয়ে যায় ১০ টাকা পিস।'

ব্যবসায়ীদের মতে, মূলত চাহিদার ওপর নির্ভর করে ওঠা নামা করে কলার দাম। আবার যাতায়াত ও সময়কেন্দ্রীক মূল্য কম বেশী হয়। সাধারণত রোজার শুরু থেকে কলার দাম একটু বেশি থাকে। তবে ‌১৫ রমজানের পর আস্তে আস্তে দাম কমতে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাষি এবং ভোক্তারা যাতে প্রতারিত না হয় সে ব্যাপারে সজাগ আছে মাঠ প্রশাসন। রোজায় মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য প্রতিনিয়ত করা হচ্ছে বাজার তদারকি।

চুয়াডাঙ্গার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোহা. সহিদুল ইসলাম বলেন, 'কৃষকরা বেশি মূল্য পাচ্ছে। যেহেতু পবিত্র রমজান মাস, সে হিসেবে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কৃত্রিম সংকটের কারণে যেন ভোক্তারা না ঠকে সেজন্য আমরা নিয়মিত প্রশাসনিকভাবে মনিটরিং করছি।'

এবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। যা থেকে শত কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

এমএসআরএস