কৃষি
দেশে এখন
সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম তরমুজের
আকাশছোঁয়া দামের কারণে কিছুদিন আগেও সাধারণের নাগালের বাইরে ছিলো তরমুজ। তবে, দক্ষিণের জেলা বরগুনায় ভিন্ন চিত্র। জমিতে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও। এদিকে চট্টগ্রামে দশ দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমেছে দাম। আড়তে সরবরাহ থাকলেও বেচাকেনার ক্ষেত্রে পড়েছে প্রভাব।

কিছুদিন আগেও যে জমি পতিত পড়ে থাকতো, সে জমিতে এখন চাষ হয় নানা ফসল। আগাম তরমুজে ছেয়ে গেছে বরগুনার চরাঞ্চল। ফলন ভালো হওয়ায় এ বছর কৃষকরা দেখছেন লাভের মুখ।

প্রতি একর জমিতে কৃষকের উৎপাদন খরচ ৭০-৮০ হাজার টাকা। আর প্রতি একর জমির তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকায়।

এখানে উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারের হাত ঘুরে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বরগুনার কৃষকরা বলেন, 'একেকটা গাড়িতে খরচ পড়ে ৪০-৫০ টাকা করে। এখান থেকে তরমুজ পতেঙ্গা, নওগাঁ, ঢাকাসহ সারাদেশে যায়।'

এ বছর বরগুনায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বরগুনা মাঠ থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকেই আগাম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে তরমুজ। এখান থেকে প্রতি পিস তরমুজ ১৫০ টাকায় কিনে পাইকাররা পাঠিয়ে দেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের আড়তগুলোয় তরমুজের দাম এখন কমতির দিকে। প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরমুজ আসছে। অর্থাৎ সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। আর সরবরাহের বিপরীতে আড়তদাররা ভুগছেন ক্রেতা সংকটে।

রমজানের শুরুতে চট্টগ্রামের বাজারে তরমুজের দাম ছিল আকাশচুম্বী। ফিরিঙ্গি বাজারে ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের প্রতিটি পাইকারিতে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। যা খুচরা পর্যায়ে ৬শ টাকার উপরে বিক্রি হয়। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম নেমেছে অর্ধেকে। বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর ছোট আকারের প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৩০ টাকায়।

প্রতিদিন নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর মতো দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে ট্রাকে করে তরমুজ আসছে আড়তে। সরবরাহ বাড়ার বিপরীতে ক্রেতা সংকট, প্রশাসনের অভিযানের কারণে দাম নিম্নমুখী। এতে লোকসান হচ্ছে বলে জানালেন আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

আড়তদাররা বলেন, 'ব্যবসা নেই। এক গাড়ি তরমুজ আগে বিক্রি হতো ৬ লাখ টাকায় এখন বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ টাকায়।'

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, 'পাইকাররা বাড়ালে তখন আমাদের সিন্ডিকেট হয়ে যায়। ম্যাজিস্ট্রেট এসে  আড়তদারদেরকে জরিমানা করে।'

এছাড়াও এ সময়ে বাজারে আসা তরমুজের অর্ধেকই থাকে অপরিপক্ব। ফলে বিমুখ হচ্ছেন ক্রেতারা। যার প্রভাব পড়ছে কেনাবেচায়।

ইএ