দেশে এখন
অগ্নিকাণ্ডের পরও সরে না রাসায়নিক কারখানা
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য বলছে, গত ১১ বছরে আগুনের ঘটনায় পুরান ঢাকায় প্রাণহানি ঘটেছে দুই শতাধিক। নিমতলী, চুড়িহাট্টা, আরমানিটোলার ঘটনাগুলো নতুন রুপে ফেরত আসে বারবার। তবুও আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও বেশকিছু সুপারিশ আর তদন্ত কমিটি গঠন করেই শেষ হয় কাজ।

তিপ্পান্ন গলির পুরান ঢাকা, প্রতিটি গলিতেই বিপদের সবরকম হাতছানি। এখানে হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে মানুষের বসবাস।

পুরান ঢাকার বাড়িতে বাড়িতে, অলি-গলিতে হাঁটলেই কারখানা। প্লাস্টিক, ক্যামিক্যাল আর পলিথিন দিয়ে ভরপুর গুদামগুলো। বেশিরভাগই আবার টিনশেডের। এসব কারখানা থেকেই আগুনের ঘটনা আর প্রাণহানি যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার ২৩ মার্চ (ভোর রাতে) আগুন লাগে পুরান ঢাকার ইসলামবাগের একটি জুতার কারখানায়। ফায়ার সার্ভিসের ৯ টি ইউনিটের চেষ্টায় আড়াই ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দাহ্য পদার্থ থাকায় ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো এলাকা, বেগ পেতে হয় আগুন নিয়ন্ত্রণে।

স্থানীয়রা বলেন, ‘তিনটা-সাড়ে তিনটার দিকে ধোঁয়া দেখে আমরা সবাই এসে নেভানোর চেষ্টা করি। এরপর পরই ফায়ার সার্ভিস চলে আসে।’

আরেকজন বলেন, ‘কেমিক্যালের গন্ধে এখানে থাকতে পারি না। দম বন্ধ হয়ে আসে। এই কারখানাগুলোর জন্য আমরা লাশ বের করতে পারি না রাস্তার এমন অবস্থা করে রাখছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামবাগজুড়েই কেমিক্যাল, পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারখানা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের পুনর্বাসন করা না গেলে আগুনের ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই।

ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘কারখানাগুলোকে দূরে সরিয়ে ফেলতে পারলে ভালো হবে। এখানে ঘনবসতির ভেতর এসব না রাখায় ভালো। সরকার বললেও এরা এখান থেকে যায় না, সিস্টেম করে তাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে।’

নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া আর রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বার বার ঘটছে এমন ঘটনা।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আগের ঘটনাগুলোতে কেন একজন মানুষও শাস্তির আওতায় আসলো না অথবা দায় বহন করতে হলো না। এখানে সরকারের সাথে সাথে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়কে তাদের জন্য অন্য একটা জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। তারা সেখানে চলে যাবে। সরকার শিল্প কারখানা স্থাপন করে দিবে। কিন্তু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না যে, এই ঘনবসতি এলাকার মধ্যে এই ধরনের কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি, গুদাম, রাবার কারখানা, প্লাস্টিক কারাখানা দিনের পর দিন থাকবে।'       

প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পরই একাধিক সংস্থা তদন্ত কমিটি গঠন করে। শুরু হয় নানা রকম আলোচনা। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও বেশকিছু সুপারিশ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু মাস ঘুরে বছর যায়, সেই সুপারিশ আর বাস্তবায়ন হয় না। নগরবিদরা মনে করেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিতে পারলে আগুনের ঝুঁকি থেকে পুরান ঢাকাকে বাঁচানোর উপায় নেই।

ইএ