এশিয়া
বিদেশে এখন
পাকিস্তানে আবারও জারি হতে পারে সামরিক শাসন
চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার জেরে পাকিস্তানে আবারও সামরিক শাসন জারি হতে পারে বলে বাড়ছে শঙ্কা। একদিকে নানা নাটকীয়তার পর সরকার নয় বরং শক্তিশালী বিরোধী দল গড়বেন ইমরান খান, জানিয়েছে তার দল পিটিআই। অন্যদিকে জোট সরকার গঠনের আলোচনায় এগিয়েছে নওয়াজ-বিলাওয়ালের দল, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অধরা।

পাকিস্তানে ভোটে নেই সুনির্দিষ্ট কোনো বিজয়ী। সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েন চলছে বিরামহীনভাবে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ করে কয়েক হাজার মানুষ।

পাকিস্তানের নির্বাচনে দাঁড়ানো পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান আকরাম রাজা বলেন, '৮ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে শুরু করে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল আর রাত পর্যন্ত যা ঘটেছে এ দেশে, তা পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ওপর চূড়ান্ত আঘাত।'

৮ ফেব্রুয়ারি'র প্রহসনের নির্বাচন আর সরকার গঠন নিয়ে চলমান জটিলতা পাকিস্তানকে আবারও সামরিক শাসনের দিকে ঠেলে দেবে বলে উদ্বেগ জানায় বিক্ষোভের আয়োজক দলগুলো। চলমান রাজনৈতিক নৈরাজ্যে দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা অদূর ভবিষ্যতে নতুন সরকারকে পতনের মুখে নিয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন বিক্ষোভকারীরা।

পাকিস্তান গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট সিবগাতুল্লাহ শাহ রাশদি বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে আট-দশ মাসের বেশি কোনো সরকার চলবেও না। তখন হতেই পারে যে সেনাবাহিনী সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলো। নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আর বাকি কী আছে? জরুরি অবস্থাই জারি করে দেবে তখন। সামরিক শাসনও জারি হয়ে যেতে পারে।'

এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী নানা নাটকীয়তার পর সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য, সব পর্যায়ে পিটিআই শক্তিশালী বিরোধী দল গড়বে বলে দলনেতার পক্ষ থেকে জানিয়েছেন নেতারা।

অন্যদিকে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী না করার শর্তে তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের আলোচনায় আরেক ধাপ এগিয়েছে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পাকিস্তান পিপল'স পার্টি। নতুন এ সরকার গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা এলেও তাতে পাকিস্তানের কল্যাণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজীবী সাহাব উস্তো বলেন, 'পিএমএল-এন আর পিপল'স পার্টির সম্ভাব্য জোট সরকার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা এখনও দেখাতে পারেনি। অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হতে পারলে দেশকে রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল করার পথও খুলে যেতো। অথচ এই দলগুলো স্রেফ সরকার গঠন করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চিন্তায় মত্ত।'

২৪ কোটির বেশি মানুষের দেশ পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় পরাশক্তি। ধীরগতির প্রবৃদ্ধি আর মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে জর্জরিত অর্থনীতি নিয়ে সন্ত্রাসবাদও মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমরানপন্থি স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হতে হবে নতুন জোট সরকারকে।

এমএসআরএস