অর্থনীতি
দেশে এখন
অবরোধের প্রভাব নিয়ে চিন্তিত রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা
আর ক'দিন বাদেই বাড়বে শীতের তীব্রতা। রাজশাহীর মার্কেটগুলোতে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে গরম পোশাকের বেচাকেনা। শীতের শুরুতে ক্রেতার উপস্থিতি কম হলেও বেড়েছে শিশু পোশাকের বিক্রি।

ভোরে মিটমিটে সূর্য, দৃষ্টিসীমার অস্পষ্টতা আর ফসলের ক্ষেতে দেখা দিচ্ছে কুয়াশার প্রলেপ। বেলা বাড়ার সাথে সূর্যের তেজ বাড়লেও সন্ধ্যা নামলেই কমছে তাপমাত্রা। হিমবাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তার।

সকাল-সন্ধ্যায় এমন শীতল অনুভূতিতে গরম পোশাকের বাজার এখন সরগরম। নগরীর সাহেব বাজার, হড়গ্রাম, শিরোইলসহ ফুটপাতের বাজারগুলোয় বেড়েছে নানা ধরনের শীতবস্ত্রের চাহিদা।

বিক্রেতারা বলছেন, 'শীতের কাপড় পর্যাপ্ত পরিমাণ আছে আমাদের কাছে, আশা করি শীত বেশি হলে আমাদের বেচাকেনা বেশি হবে।'

ভ্রাম্যমাণ এসব বাজারে রকমভেদে সোয়েটার, হুডি, মাফলার, মোজা, বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এসব পোশাকের দাম ৯০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। তাই শীত এলে নিম্নবিত্ত মানুষদের ভিড় বাড়ে এখানে।

পুরোদমে শীত নামবার আগেই টুকটাক শীতের কেনাটাকায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিভাবকরা। তবে গেলবারের তুলনায় প্রতিটি শীত পোশাকে দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

ক্রেতারা বলেন, শিশুদের জন্য কাপড় এর পরিমাণ অনেক, কিন্তু আমাদের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কাপড় এখনও পাচ্ছি না। হালকা শীতের জন্য বাচ্চার জন্য কাপড় কিনতে আসছি।

কিন্তু বেল্ট বা গাইটের দাম বৃদ্ধি পেলেও পোশাকের দাম খুব বেশি বাড়েনি, দাবি ব্যবসায়ীদের। সাথে অবরোধের প্রভাবে মৌসুমের শুরুতে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে, সন্ধ্যা ছাড়া বাকী সময় অলস বসে থাকতে হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে শুধুই শিশুদের শীতের পোশাক।

এবছর কার্তিকের শুরু থেকেই প্রকৃতিতে শীতের প্রভাব আশা জাগিয়েছে ব্যবসায়ীদের মনে। নগরীর অর্ধশত দোকানে এবারে বেচাকেনার আশা প্রায় ৩ কোটি টাকার।

রাজশাহী হকার্স সমিতি সদস্য মো: জামাল জানান, 'গত বছরের তুলনায় এবছর আমাদের কাপড় কিনতে খরচ পড়েছে বেশি। সেজন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।'

শীত বাড়ার সাথে সাথে রাজশাহীতে পুরনো কাপড়ের বাজারের পরিধি বাড়তে থাকে। কোর্ট, রেল স্টেশান ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গড়ে ওঠে পুরনো কাপড়ের অস্থায়ী বাজার। যেখানে প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় লাখ টাকার কাপড়।

এমএসআরএস