নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী; কবির সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

কবির সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
কবির সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা | ছবি: এখন টিভি
0

দ্রোহের প্রতীক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাহিত্যপ্রেমী মানুষরা। নিজের সৃষ্টিকর্ম দিয়ে নজরুল সব বয়সী মানুষের মাঝে প্রাসঙ্গিক থাকবেন, মন্তব্য সংস্কৃতিকর্মীদের। আর রাজনীতিবিদরা বলেন, জাতির সব আন্দোলন-সংগ্রামে কবি নজরুলই মূল অনুপ্রেরণা।

সাম্য ও সম্প্রীতির অন্যান্য এক পুরোধা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মানবমুক্তি আর অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে যার লেখনী যুগে যুগে প্রেরণা জুগিয়েছে বাংলা ও বাঙালির সত্ত্বায়। সংগ্রামে-আন্দোলনে, যার অবিনাশী গান-কবিতা আজও আন্দোলিত করে হৃদয়কে।

জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধি ছেয়ে যায় ফুলে ফুলে। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবির পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।

কবির বৈচিত্র্যময় সাহিত্যকর্মকে হৃদয়ে ধারণ করার মধ্যদিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের আহবান সংস্কৃতি কর্মী ও বিশিষ্ট জনদের। বলেন, নিজের সৃষ্টিকর্ম দিয়ে সত্য আর ন্যায়ের পথে যুগে যুগে প্রাসঙ্গিক থাকবেন নজরুল।

কবি ও লেখক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘আমাদের ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে এ পর্যন্ত যত সংগ্রাম হয়েছে, যত আন্দোলন হয়েছে, নজরুলকে বাদ দিয়ে, নজরুলের গান বাদ দিয়ে সে আন্দোলন কখনো সফল হয়নি। এমনকি এবারের জুলাই আন্দোলনেও আপনি দেখবেন যে পথে পথে ছেলেরা, মেয়েরা গান গেয়েছে নজরুলের।’

ঢাবির ভিসি ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তার জীবন আদর্শ অনুসরণ করে আমরা যদি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখি তাহলে অবশ্যই আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের প্রতি দেশের প্রতি দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।’

আরও পড়ুন:

সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, ‘তিনি নিজেই নিজের অভিভাষণে বলে গেছেন যে সব সাংস্কৃতিক সবগুলো অঙ্গনে আমি যা করতে পেরেছি, আমি যা দিতে পেরেছি, তার মধ্যে সংগীতেই সবচেয়ে বড় অবদান।’

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবির পরিবারের সদস্যরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নজরুলবর্ষ ঘোষণা আনন্দের উপলক্ষ। নজরুলের সাহিত্যকর্মকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে তাঁর গান-কবিতাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

কাজী নজরুল ইসলামের নাতনী খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমরা যেন এই বছরটিতে নজরুলকে নিয়ে নানানভাবে কাজ করতে পারি। সেই সঙ্গে যারা যেসব প্রতিষ্ঠান আছে তারাও যেন এগিয়ে আসেন এই বছরটিকে মানে কাজে লাগাবার জন্য।’

এর আগে, জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্যরা। বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কবি নজরুলই ছিলেন মূল অনুপ্রেরণা। জাতীর সকল আন্দোলন সংগ্রামে নজরুলের গান-কবিতা সাহস যুগিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামের প্রধান প্রেরণা ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যত ধরনের অন্যায়, অবিচার, অসত্য, অন্যায্য থাকবে, ততদিন আমাদেরকে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেবে তার সাহিত্যকর্ম।’

শুধু নজরুলের জন্মবার্ষিকীর একটি দিনেই নয়, চেতনার বাতিঘর হয়ে প্রেম-মানবতা আর বিদ্রোহের আলো ছড়াবেন মানুষের হৃদয়ে।

এফএস