খেতের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে দূর থেকে মনে হবে গাছে ধরে আছে আপেল কিংবা গাব। তবে কাছে গেলেই বদলে যাবে ধারণা। গাছজুড়ে ঝুলছে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন। দেশের মাটিতেই এখন সফলভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি এই ফল।
যশোরের চৌগাছার হিজলী গ্রামের কৃষক জুলফিকার সিদ্দীক। ২০২১ সালে নাটোর থেকে পার্সিমনের চারা কিনে ৫ কাঠা জমিতে লাগান ১৭টি গাছ। প্রায় তিন বছর পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। চলতি মৌসুমে এসব গাছে ধরেছে প্রচুর পার্সিমন।
পার্সিমন চাষি জুলফিকার সিদ্দীক বলেন, ‘এখানে আমার ৩০টি চারা ছিলো। কিন্তু পলি হাউস করার কারণে ১ লাইন বা ৮টি গাছ উঠে গেছে। আমি আবার কিছু চারাকে অন্য জাতে রূপান্তরিত করেছি। সেক্ষেত্রে এখন আর ৩০টি নেই, ১৭টি আছে। ছোটো-বড় অনেকগুলো গাছ আমি এরই মধ্যে লাগিয়েছি এবং আরও অন্যান্য জাতের লাগিয়েছি। এমন একদিন আসবে, যখন পার্সিমন কাঁচাতেই মিষ্টি পাবেন। এগুলো ফল দু-একটা করে ধরতে শুরু করেছে।’
আরও পড়ুন:
জুলফিকারের বাগানে ফল ধরার খবর ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামেও। প্রতিদিনই পার্সিমন দেখতে আসছেন অনেকে। আপেলের মতো দেখতে আকর্ষণীয় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, দেখতে আপেলের মতো এই ফল এবং খেতেও অনেক সুস্বাদু। জাপানের জাতীয় ফল এ দেশে খেতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেকে। অনেকে আবার জানান চাষ করার আগ্রহের কথা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু হিজলী নয়, যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও পার্সিমনের চাষ হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি পার্সিমন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ায় ফলটির উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সমরেন বিশ্বাস বলেন, ‘একজনই চাষ করেছেন। তারা মোটামুটি সফল। আমাদের যে গবেষণা এবং লিংকেজ ওয়ার্কশপ, সেখানে আমরা এটা উপস্থাপন করেছি। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আমাদের অ্যাপ্রুভ (অনুমতি দেয়া) করা হয়, তাহলে আমরা এটি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবো।’
এখন পর্যন্ত যশোরে পার্সিমন চাষের পরিমাণ সীমিত হলেও, সঠিক পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে লাভজনক এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ বাড়ানোর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




