পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করে এবার বিপাকে পড়েছেন চাঁপাইয়ের আমচাষিরা। চলতি মৌসুমে ব্যাগের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিম্নমানের ব্যাগ ব্যবহারে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ আম। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরের আমচাষি মাসুদ রানা। চার বিঘা জমিতে আশ্বিনা আম চাষ করে ৪০ হাজার ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করেছেন তিনি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত আম বিক্রি করেছেন মাত্র ২ লাখ টাকার।
মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা যে প্যাকেট করেছি, তা প্রায় ১ লাখ পর্যন্ত প্যাকেট করা হয়েছে। কোনোটা ভালো আবার কোনোটা মন্দ। প্যাকেটের মধ্যে এবার অত্যাধিক ভাইরাস। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ধরেন ১ লাখ টাকা খরচ করে অর্ধেক টাকা তুলতে পারছি।’
আগে একটি ফ্রুটব্যাগ ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায় বিক্রি হলেও এবার কৃত্রিম সংকটে তা বেড়ে ৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চাষিদের দাবি, নিম্নমানের ব্যাগ ব্যবহারে প্রায় ৫০ শতাংশ আম নষ্ট হয়েছে।
ফ্রুট ব্যাগ, শ্রমিক মজুরি, সার-কীটনাশকসহ বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ভালো দামের আশায় ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করেও বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় তারা।
চাষিরা জানান, প্যাকেট করার পর বেশিরভাগ আমই নষ্ট পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমচাষিদের অনেকটাই দিশেহারা অবস্থা।
চলতি মৌসুমে নিম্নমানের ফ্রুটব্যাগ ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি কৃষি কর্মকর্তার। আর বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন কম্পানির ফ্রুটব্যাগ বাগানে ব্যবহারের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ গবেষকদের।
চাঁপাইয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘কৃষকরা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার শিখেছে। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, তারা যখন ব্যাগগুলো ব্যবহার করবে, তখন এলাকাভিত্তিক যে কৃষি কর্মকর্তারা রয়েরছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সেটা করতে। যাতে ফলটা ভালো থাকে এবং যে উদ্দেশে প্যাকেট করা যে, পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে দূরে রাখা এবং আমের রং ঠিক রাখা। এজন্য আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’
চাঁপাইয়ের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘যে যেই কোম্পানিরই ব্যাগ নিয়ে আসেন, এটা প্রথমে তারা ১০০ বা ২০০ ব্যাগ পরীক্ষার জন্য দেবেন। এই মানের ব্যাগ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চলবে কি না এবং আমরা যদি এটা সার্টিফাই করি যে, এই ব্যাগ ব্যবহারে সমস্যা নেই, তাহলে চাষিদের ক্ষতির সম্ভাবনাটা কম থাকবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩০ কোটি আমে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্রুটব্যাগ। এসব ব্যাগ কিনতেই চাষিদের খরচ হয়েছে আনুমানিক ১৮০ কোটি টাকা।





