সরিষা ফুলে মৌমাছির গুনগুনে মুখর জামালপুর, মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা

জামালপুরে সরিষা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা
জামালপুরে সরিষা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা | ছবি: এখন টিভি
3

জামালপুরে দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে যেন উৎসবের আমেজ। গুনগুন শব্দে মুখর পরিবেশে মৌমাছির দল ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। এই মৌসুমে সরিষা ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলার মৌচাষিরা। তবে তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদের ঋণ সহায়তা পেলে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

গত তিন সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে জামালপুর সদর উপজেলার চর মোহাডাঙ্গা গ্রামে এসেছেন ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাবুল। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মৌ চাষ করছেন তিনি।

শখের বসে চারটি মৌবাক্স দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ২৫০টি বাক্স। এসব বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে তিনি ১২ থেকে ১৫ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। চলতি মৌসুমে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা তার।

মধু চাষি মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এ বছর আমাদের খরচ একটু বেশি গেছে। কারণ বাক্স বাড়িয়েছি, আমার প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়েও আমার প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভ থাকবে।’

সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি সারি মৌবাক্সে প্রতিটিত রয়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মৌমাছি। এসব মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করে। সপ্তাহে একদিন মধু সংগ্রহ করেন চাষিরা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, আর পাইকারিতে প্রায় ৩০০ টাকায়।

আরও পড়ুন:

মৌচাষিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘১০০ এর বেশি বাক্স আছে। এ থেকে প্রতি বছর যা আয় হয়, তা দিয়ে আমার মোটামুটি ভালোই চলে।’

ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বাজারের মধুতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে এটা যেহেতু আমরা চোখের সামনে দেখি, কাটা হয়, তাই এটা দেখে মনে হচ্ছে ভালো এবং খাঁটি।’

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর জামালপুরে ৪০ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। মাঠে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মৌবাক্স, যেগুলো থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টন মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকা।

মৌ চাষ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী খ.ম. রোকন উদ-দ্দৌলাহ বলেন, ‘কৃষির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের যদি আমরা সচেতন করতে পারি এবং খামারিদের যদি মাঠে আমরা যথাযথভাবে বসাতে পারি, তাহলে আমাদের কৃষি উৎপাদন ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জেসমিন জাহান বলেন, ‘ওয়েদার কন্ডিশন ভালো। সরিষাটাও আমরা মোটামুটি সঠিক সময়ে লাগাতে পেরেছি। এজন্য আমরা আশা করছি, মধুর ফলন বা মধু যে আমরা নিষ্কাশন করবো, এটার পরিমাণ আশানুরূপ হবে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মধুর ফলনটা আমরা এ বছর বেশি পাবো।’

সরিষার হলুদ মাঠকে ঘিরেই দেশে বাণিজ্যিক মধু উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এসএইচ