এক মাস পর ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরেছে রাঙামাটির পর্যটনের ‘আইকন’ ঝুলন্ত সেতুতে। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমায় টানা এক মাস দু’দিন পর কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের দৃষ্টিনন্দন এই সেতু। এরই মধ্যে তুলে নেয়া হয়েছে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। ফলে সেতু ঘিরে ফিরেছে চেনা ব্যস্ততা, স্বস্তি ফিরেছে পর্যটকদের মাঝেও। ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমায় টানা এক মাস দু’দিন পর কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু। তুলে নেয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের সেতু ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা। এ মৌসুমে সেতু ডুবে যাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। গেল ১১ সেপ্টেম্বর পানিতে তলিয়ে যায় সেতুটি। নিরাপত্তার কারণে ওই দিনই বন্ধ করা হয় পর্যটকদের প্রবেশ।

তবে সেতু ডুবে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রতিবছর বর্ষায় হ্রদের পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় রাঙামাটির পর্যটনের প্রধান এই আকর্ষণ। চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় গেলে ২৯ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ডুবে যায় সেতু। এর আগে গেল বছরের ২৩ অক্টোবর ৮৫ দিন পরে ভেসে উঠে এই ঝুলন্ত সেতু। এতে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানে পড়েন সংশ্লিষ্টরা।

সবশেষ ১২ অক্টোবর বিকেল থেকে পানি সরতে শুরু করলে সংস্কার শেষে তুলে নেয়া হয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এই পর্যটন স্থাপনা পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় উচ্ছ্বাসিত দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরাও।

আজ (বুধবার, ১৪ অক্টোবর) বিকেলে সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়। পরিবার, শিশু কিশোর এসেছেন অনেকেই। কেউ সেতুতে সেলফি তুলছেন, কেউ নৌভ্রমণ উপভোগ করেছেন। বেশিরভাগই তরুণ তরুণী।

আরও পড়ুন:

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা তানিয়া আক্তার বলেন, ‘পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি আর কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ নীল জলরাশি মন ভালো করে দেয়। বার বার আসতে মন চায়। দারুণ উপভোগ করছি।’

বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, ‘দেশের অন্য পর্যটন স্পট থেকে রাঙামাটি অনন্য। একদম আলাদা। এখানকার সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো যায় না। এজন্য সুযোগ হলেই ছুটে আসি এখানে। আমাদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে—ডুবে থাকা সেতু ভেসে উঠায় ঘুরতে পারলাম, ছবিও তুললাম। অসাধারণ ভালো লাগার একটা অনুভূতি নিয়ে ফিরতে পারবো।’

ঝুলন্ত সেতুর নৌ-ঘাট টোল আদায়কারী ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘একমাসের বেশি সময় ডুবে থাকার পরে সেতু ভেসে উঠেছে। এরইমধ্যে সেতুর সংস্কার কাজ শেষে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করে গতকাল থেকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আশা করছি পূজার ছুটি আর পর্যটন মৌসুমে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণে আসবেন।’

ঝুলন্ত সেতু টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। সেতু বন্ধ থাকলে রাঙামাটির পুরো পর্যটন খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এখন সেতু খুলে দেয়ায় বিগত সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কথা বলছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।’

দৃষ্টিনন্দন এ ঝুলন্ত সেতুটিতে বছরে ১০ লাখের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশ ফি থেকে বাৎসরিক আয়ের অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকার অধিক। অথচ প্রতি বর্ষায় পানির নিচে হারিয়ে যায় এই আকর্ষণ একসঙ্গে বিরূপ প্রভাব পড়ে পর্যটন খাতে। তাই বারবার সাময়িকভাবে খুলে দেয়ার বদলে পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি পর্যটনসংশ্লিষ্টদের।

এসএস