
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চাপে কৃষকরা; কৃষক কার্ডই কি আনবে স্বস্তি?
কিশোরগঞ্জে গড়ে উঠেছে বিশাল এক কৃষি অর্থনীতি। বছরে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় আসে এই খাত থেকে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর উৎপাদন খরচ বাড়ায় চাপে কৃষকরা। এমন বাস্তবতায় আশার আলো দেখাচ্ছে সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ উদ্যোগ। কিন্তু এই সুবিধা কতটা পৌঁছাবে প্রান্তিক কৃষকের হাতে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সরকারের কর্মপরিকল্পনায় কৃষকবান্ধব নানা উদ্যোগ; কৃষি অর্থনীতির নতুন সূচনার আভাস?
পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কার্ডের আওতায় প্রান্তিক চাষিদের সহজে কৃষি প্রণোদনা, ঋণ ও ভর্তুকি দেবে সরকার। কৃষককার্ড ছাড়াও বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ঠাঁই পেয়েছে কৃষকবান্ধব নানা উদ্যোগ। কৃষি অর্থনীতিবিদদের অভিমত, উদ্যোগ সফল হলে সরকার ও কৃষকের মাঝে কমবে দূরত্ব, সূচনা হবে কৃষি অর্থনীতির নতুন দিনের।

সংযোগ সড়কের অভাবে বন্ধ বরগুনার ফেরি চলাচল
দুটি সংযোগ সড়কের অভাবে আলোর মুখ দেখছে না বরগুনার তালতলী উপজেলার পর্যটন ও কৃষি অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা। এ কারণে পায়রায় চালু হচ্ছে না তালতলীর সঙ্গে বরগুনা সদরের ফেরি চলাচল। এতে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। ব্যাহত হচ্ছে পর্যটন বাণিজ্য।

ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন কিশোরগঞ্জের কৃষক
কিশোরগঞ্জের হাওরের চরাঞ্চল এখন সোনালি রঙে রাঙানো। গত কয়েক বছরে কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন। যেখানে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি, এবং বন্যা কিংবা খরার ভয় নেই। এবারও ফলন হয়েছে বাম্পার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সোনালি ফসল।

শীতকালীন কৃষিতে চাঙ্গা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি
শেষের দিকে শীতকাল। প্রকৃতির অঙ্গজুড়ে এখন কুয়াশার পিরান। সে চাদর সরিয়ে গাছিদের রস, মৌয়ালদের মধু আর আর চাষিদের সোনা ফলানোর চেষ্টা বাংলার পরতে পরতে। কারণ, হেমন্তের উপহার যদি হয় কৃষাণীর থালা ভরা ভাত, শীত যেন জোগায় সে সাদা ভাতের রসনা। দুর্ভোগকে আপন করে নেয়ার শীত হয়তো পেয়েছে কারো কারো ঠোট উল্টানো অনুযোগ, তাতে যেন এ ঋতুর কিছুই আসে যায় না! প্রকৃতির কাছে মাঘের শীত যেন লজ্জা না ভাঙ্গা এক নববধূর মুখ।

উত্তর জনপদে সেচের পানির অভাব মেটাচ্ছে সোলার পাম্প
উত্তর জনপদে সেচের পানির অভাব ঘুচিয়ে দিচ্ছে সোলার পাম্প। প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এই প্রকল্প। এতে হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে। এদিকে সোলার সেচ প্রকল্পকে ফসল উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক বলছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

ঝিনাইদহে ড্রাগন ফলের বাজার ৮শ' কোটি টাকা
চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে ৩২ হাজার টন ড্রাগন ফল উৎপাদন হয়েছে। যার বাজারমূল্য সাড়ে ৮শ' কোটি টাকার উপরে। চাষ ছাড়িয়েছে ১ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। কৃষি অর্থনীতির এমন নতুন সম্ভাবনায় খুশি চাষিরা। নিরাপদ ড্রাগন ফল উৎপাদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় সচেতনতা বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

পটুয়াখালীতে আবাদহীন ১৪ হাজার হেক্টর জমি, পিছিয়ে কৃষি অর্থনীতি
দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী ধান উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও জলবায়ুর কারণে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে এখানকার অর্থনীতি। জলাবদ্ধতায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে জেলার ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এতে ব্যাহত হবে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, অন্যদিকে পিছিয়ে পড়বে এখানকার কৃষি অর্থনীতি। এতে দুশ্চিন্তায় জেলার হাজারো কৃষক।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাংক ঋণ মওকুফের পরামর্শ
বন্যায় কৃষিজমির বীজতলা, শেষ ধানের শীষ, গবাদিপশু বা পোল্ট্রি খামার এক নিমেষেই শূন্য হয়েছে অনেকের। কৃষকের গোলা আবার পূর্ণ করতে নিঃশর্ত এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় ব্যাংকের ঋণ মওকুফেরও পরামর্শ দেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রেও চার থেকে পাঁচ শতাংশ বেশি সুদহার নির্ধারণ, উল্টো বিপর্যস্ত করতে পারে এসব এলাকার অর্থনীতি।

ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়ক নির্মাণে সমৃদ্ধ হবে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি
শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে বিকল্প মহাসড়ক। নতুন এই মহাসড়ক নির্মাণ শেষ হলে চরাঞ্চলসহ লাখো মানুষের ভাগ্য খুলবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২২ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের জুনে। এতে করে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

যশোরে সবজির বাজার মূল্য ২ হাজার কোটি টাকা
চলমান পরিস্থিতিতে রাজধানীতে কম আসছে পণ্যবাহী ট্রাক। অনেক সময় রাজধানীতে ঢুকতে না পারায় বাড়ছে পচনশীল পণ্যের হার। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। সবজির জন্য বিখ্যাত যশোরে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে প্রায় ৫ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

নির্বিচারে রাসেল'স ভাইপার নিধনে ক্ষতির মুখে কৃষি অর্থনীতি
রাসেল'স ভাইপারের খোঁজে দল বেধে হানা দেয়া হচ্ছে সাপের বাসস্থানগুলোতে। ফলে প্রভাব পড়ছে পরিবেশে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিটি প্রাণিই প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে সাপ নিধনে বাস্তুতন্ত্রে ও কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাপ ধরা, বহন করা ও মারা হলে জেল জরিমানার যে বিধান রয়েছে তা প্রয়োগের তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।