১৬ বছর পর আরও একবার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ফিরলো পশ্চিম ইউরোপের দেশ স্পেনে। ভূমধ্যসাগরের পানির উচ্ছ্বাস যেন আছড়ে পড়েছে বিশ্বজয়ের আনন্দে। নিউইয়র্ক থেকে মাদ্রিদ, লম্বা যাত্রার পরেই বিশ্বকাপ জয়ের আসল আনন্দ শুরু করেছে রদ্রি-ইয়ামাল-কুবার্সিরা।
বিমান থেকে নেমেই শুরু হয় স্প্যানিশ ফুটবলারদের বিজয়যাত্রা। রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের সঙ্গে সাক্ষাত করে পুরো দল। এমন বিজয়কে পুরো স্প্যানিশ জাতির জন্য গর্বের উল্লেখ করে বিশ্বকাপজয়ী বীর ফুটবলারদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বলেন, ‘আমাদের দল যখন খেলে, তখন আমরাও খেলি। এটা পুরো দেশের দল। এখন যখন তোমরা বিশ্বকাপ জয় করেছো, এটা পুরো স্পেনের জন্যই জিতেছো।’
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সৌভাগ্য যে, তোমাদের খেলতে দেখেছি, ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে দেখেছি আর এখন আমাদের সমস্ত আয়োজন দিয়ে স্পেনে বরণ করতে পারছি।’
২০৩০ সালে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক স্পেন। ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ স্পেনের সামনে। আনন্দ আয়োজনের মধ্যে সেই চ্যালেঞ্জের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
আরও পড়ুন:
পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘লুইস আরাগোনেস (স্পেনের কিংবদন্তি কোচ) যা বলেছেন, সেটা তোমরা সত্য প্রমাণ করেছো। ফাইনাল কেবল খেললে হয় না, এটা জিততে হয়। তোমরা দুইবার ফাইনাল খেলে দুইবারই জিতেছো। ২০৩০ সালে কেন হবে না? কেন তিনে না গিয়ে দুইয়ে আটকে থাকবো? বিশেষ করে স্পেন যখন এই বিশ্বকাপের আয়োজক।
অধিনায়ক রদ্রি বিশ্বকাপ জয়ের মাঝেই স্মরণ করেছেন ২০১০ সালের ইনিয়েস্তা-ক্যাসিয়াসদের সোনালী প্রজন্মকে। নিজ দলকে আপাতত সেই কিংবদন্তিদের কাতারেই রাখছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতা এই ফুটবলার।
রদ্রি বলেন, ‘এই প্রজন্ম ক্যাসিয়াস-ইনিয়েস্তাকে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরতে দেখেছে। আর আজ তেমন কিছু আবার করতে পারা, ফুটবল থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আপনি অর্জন করতে পারেন না।’
স্পেনের রাজার সাথে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পরেই শুরু হয় ট্রফি প্যারেড। মাদ্রিদের আকাশ তখন দলীয় রঙ লালে রঙিন। দুই পাশে লাখ লাখ জনতাকে স্বাক্ষী স্পেনের ফুটবলাররা ছাদখোলা বাসে ছুটলেন মাদ্রিদের পথে পথে। শতাব্দীর প্রাচীনতম শহরে আরও একবার সাক্ষী হলো এক ঐতিহাসিক রাতের।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্পেন এখন নারী ও পুরুষ দুই বিশ্বকাপেরই চ্যাম্পিয়ন। রাত জেগে স্প্যানিশ জনগণ বরণ করলেন ফুটবল সম্রাজ্যের সর্বোচ্চ অর্জনের নায়কদের।
দিন কয়েক পরেই খেলোয়াড়রা ফিরবেন নিজ নিজ ক্লাবে। অনেকের সামনেই অ্পেক্ষা করছে দলবদলের ব্যস্ততা। তবে, আপাতত সেসব বাদ দিয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দ উদযাপনের দিকেই বিশেষ মনোযোগ লা রোহাদের।





