ফুটবল ভক্তদের পাগলামিতে শুধু সমর্থন করা দলই নয় অনেক সময় তাদের কাণ্ডে অবাক হয় পুরো বিশ্ব। আর বিশ্বকাপ আসলে সেই পাগলামির মাত্রা দ্বিগুণ হয়। এবারও ব্যতিক্রম নয়।
চিলির ৩৩ বছর বয়সী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এরিয়েল ওসেস। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল প্যানিনি ফুটবল অ্যালবাম জমিয়ে তা সম্পূর্ণ করা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালবামের পাতা ছেড়ে তার স্বপ্নের ক্যানভাস হয়ে উঠলো আস্ত একটি গাড়ি।
আচ্ছা বলে রাখা ভালো প্যানিনি অ্যালবামটা আসলে কি? প্যানিনি অ্যালবাম হলো ইতালীয় প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক তৈরিকৃত একটি বিশেষ সংগ্রহযোগ্য বই, যেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের ফুটবলার, স্টেডিয়াম এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন মুহূর্তের স্টিকার বা কার্ড সংগ্রহ করে আঠা দিয়ে নির্দিষ্ট ফাঁকা ঘরে লাগিয়ে রাখা হয়।
মাত্র ৩৭৩টি স্টিকার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন ওসেস। যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে, মেসি, নেইমার, হ্যারি কেইন থেকে শুরু করে বর্তমানের লামিন ইয়ামাল, ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ছবির স্টিকারও জায়গা পেয়েছে তার নিউ ব্রান্ড গাড়িটিতে। আর এই কাজে তাকে অফিশিয়ালি স্পন্সর ও সমর্থন করেছে স্বয়ং প্যানিনি কর্তৃপক্ষ।
চিলির কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এরিয়েল ওসেস বলেন, ‘আমি এটি আগের বিশ্বকাপেই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমে আমার কাছে গাড়ি বা স্টিকার কিছু না থাকায় এটা স্থগিত করতে হয়। কিন্তু এবার সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করেনি। অবশ্য আমার বন্ধু, পরিবার সবাই শুরুতে এটি মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু আমার ছোট বেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি খুশি।’
আরও পড়ুন:
নিজের এই অভিনব মিশন সফল করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে চিলির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন এরিয়েল। তবে এই আনন্দ তিনি একাই উপভোগ করেননি। তার এই পাগলামিতে শামিল করেছেন হাজারো মানুষকে। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে যারা মন্তব্য করেছেন, তাদের ডেকে এনে উপহার দিয়েছেন প্যানিনি অ্যালবাম ও স্টিকার।
তিনি বলেন, ‘তুরস্কের এক ব্যক্তির মাথায়ও একই ধারনা ছিলো। কিন্তু তিনি এটি একটি ছোট গাড়ি দিয়ে করেছিলেন। মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা
এবং ব্রাজিলের লোকজন আমাকে গাড়ি নিয়ে সেখানে যেতে বলেছে। এটা অবিশ্বাস্য, যে স্টিকারে ঢাকা একটি গাড়ি এতটা প্রভাব ফেলতে পারে।’
চিলির সীমানা ছাড়িয়ে এরিয়েলের এ প্যানিনি কার এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে। ছোটবেলার জমানো শখ যে এভাবে আস্ত একটা গাড়িতে রূপ নিতে পারে, এরিয়েল ওসেস সেটাই করে দেখিয়েছেন।





