অর্ধশতাব্দী পরও খেলোয়াড়সুলভ পরিবেশ নেই জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায়

জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা
জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হলেও অর্ধ শতাব্দী পরও খেলোয়াড় সুলভ পরিবেশ নেই জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায়। মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারীদের আখড়ায় দিনরাত সবসময়ই সেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন অ্যাথলেটরা। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও কমলাপুর দুই স্টেডিয়ামে স্থায়ী পুলিশ বক্স বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনসিসি)।

ভেতরটা যেন এক টুকরো সবুজ ক্যানভাস। যেখানে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বোনে দেশের অ্যাথলেটরা। গ্যালারির চাকচিক্য আর ইউরোপ স্টাইলে ক্যানওপি লাইটে এক অন্যরকম জাতীয় স্টেডিয়াম।

তবে মাঠে প্রবেশের আগে নাক কুঁচকানো পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের। বাইরের নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর মাদকাসক্তদের প্রকাশ্য আড্ডা ক্রীড়াঙ্গনের এ প্রধান স্থাপনাকে করে তুলেছে চরম অনিরাপদ। মাদকাসক্ত আর ছিনতাইকারীর ভয়ে আতঙ্কিত খেলোয়াড়রা।

অ্যাথলেটদের অভিযোগ বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলে কর্তাদের ঘুম ভাঙে। তখন বাইরের এলাকা সাময়িক পরিষ্কার করলেও, টুর্নামেন্ট শেষ হতেই দেখা যায় পুরোনো সেই চিত্র। বছরের পর বছর চলা এই অনিরাপদ পরিবেশের স্থায়ী অবসান চান মাঠে ঘাম ঝরানো ক্রীড়াবিদরা।

বাংলাদেশ দলের ফুটবলার রহমত মিয়া বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের পাশে যদি এরকম পরিবেশ থাকে, আমার মনে হয় যে সরকারের এখানে নজর দেয়া উচিত এবং এটাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটাকে পরিষ্কার করে ফেলা উচিত।’

রাতের চিত্রটা তো আরও ভয়াবহ। স্টেডিয়ামের মূল ফটকের গেইটে নেই কোনো আলো। বড় টুর্নামেন্ট ছাড়া স্টেডিয়াম এলাকায় আসতে ভয় পান অ্যাথলেটরা। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর কমিটি গঠনের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি।

তবে, খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আমলে নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। শুধু টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক নয় বরং অ্যাথলেটদের বছরব্যাপী পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে এনএসসি। সংস্থাটির ক্রীড়া পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ঢাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু কমলাপুর স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটদের নিরাপত্তায় বসানো হচ্ছে স্থায়ী পুলিশ বক্স।

এনএসসি ক্রীড়া পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘রিসেন্টলি আমরা কার্যক্রম শুরু করব। অলরেডি আমরা বাজেটিং করে ফেলেছি। যে এখানে পুলিশ বক্স, স্থায়ী পুলিশ বক্স থাকবে। নট অনলি আপনার কমলাপুর এবং জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রত্যেকটা গেটেই পুলিশ বক্স থাকবে। রেগুলার মনিটরিং করবে, যে এটা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সমন্বয় করবে। আমাদের প্রতিনিয়ত এখানে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আমরা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বিশেষ করে স্পেশালি এআইকে আমরা দেয়ার জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি।’

কর্তাদের এ নতুন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের।

জেআর