নওগাঁ শহরের লোহাপট্টির কিশোর শর্মা ভবন যা বদ্রি মাড়োয়ারি নামেও পরিচিত। তিনতলা এই ভবনটি এখনো ব্রিটিশ স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করছে। কিন্তু চুন সুরকির এই ভবনটি বয়সের ভারে নুহ্য। খসে পড়ছে পলেস্তারা, ছাদ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি পরিবারের বাস, নিচ তলায় বিভিন্ন দোকানপাট। ঝুঁকির মধ্যেই প্রতিদিনের চলাচল তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দার জানান, ভবনটির বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ফাটল ধরছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ভবনটি।
লোহাপট্টি ছাড়াও শহরের ডাবপট্টি, চুড়িপট্টি ও গোস্তহাটির মতো জনবহুল এলাকায় অবস্থিত ভবনগুলো একেবারেই জরাজীর্ণ। গতবছর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের তৈরি করা ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে ৩২টিই ইংরেজদের তৈরি। সম্প্রতি ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দুর্বল ভবন ধসে প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আতঙ্ক নিয়ে দিনাতিপাত করছেন বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, খরিদ্দাররা।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটা বিল্ডিং আছে। সেগুলো অপসারণ না করলে যেকোনো সময়ে, যেকোনো মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনাগুলো ঘটতে পারে।’
সচেতন মহল বলছে, জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে জরাজীর্ণ এসব ভবনের সামনে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা উচিত। শতবর্ষী এই ভবনগুলো স্থাপত্য হিসেবে সংরক্ষণের আহ্বান প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতি।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, ‘যদি স্থাপত্য আকারে সেগুলোকে রক্ষা করতে হয় স্থাপত্যের গুণাবলীর কারণে, তাহলে সেগুলো সংরক্ষণ করা দরকার।’
পৌরসভার আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ দুইটি ভবন ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোর মালিকদের নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান এ কর্মকর্তা।
নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ মমিন বলেন, ‘যেগুলো সরকারি ভবন আছে বা পৌরসভার ভবন আছে, সেগুলো ভাঙার জন্য পৌরসভা কর্তৃক ব্যবস্থা এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বেসরকারি যে ভবনগুলো রয়েছে, সেগুলো আমাদের পৌরসভার পক্ষ থেকে যেটা দায়িত্ব, সেটা হলো যে তাদেরকে সতর্ক করা।’
এই ভবনগুলো শুধু ইটের কোন কাঠামো নয়। দেশের ঐতিহ্যেরও অংশ লাল রংয়ের দালানকোঠাগুলো। তাই ভেঙে ফেলা সহজ সমাধান হলেও এগুলো রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।





