সিরিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশ; ড্রেসিংরুমের কোন্দল ভুলে পয়েন্টের লক্ষ্য

অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের অনুশীলন
অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের অনুশীলন | ছবি: এখন টিভি
0

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের মূল পর্বে উঠতে এই ম্যাচের পয়েন্ট দু’দলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে হারের পর কোচদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ড্রেসিংরুমেই বন্দি করে ম্যাচে সব মনোযোগ দিতে ব্যস্ত কোচ থেকে খেলোয়াড়রা।

উজবেকিস্তান ম্যাচে স্কোরলাইন যাই হোক না কেন, গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী। তবে ডিফেন্সের মনোযোগহীনতা আর দুর্বল ফিনিশারের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে লাল-সবুজদের। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশ সিরিয়া বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই মিরাজুল-আসাদুলদের।

দেশ থেকে হাজার মাইল দূরেও প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স এবং সহকারী কোচের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলে দলের হারে হয়েছে বিষয়টি হয়েছে আরও স্পষ্ট। তবে কোচিং স্টাফের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে যখন দেশের ফুটবল পাড়া উত্তাল, তখন প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স বেশ শান্ত।

মাঠের বাইরের আলোচনাকে পাত্তা না দিয়ে, তার পুরো মনোযোগ এখন ট্যাকটিক্স পরিবর্তনের দিকে। আগের ম্যাচের রক্ষণাত্মক কৌশল ভেঙে সিরিয়ার বিপক্ষে বল পজিশন ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই ব্রিটিশ কোচ। সাফ জয়ী দলটি যে মাঠেই সব সমালোচনার জবাব দিতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট তার কণ্ঠে।

আরও পড়ুন:

জেরার্ড জোন্স বলেন, ‘সিরিয়ার কিছু দুর্বলতা রয়েছে। সেটা কাজে লাগিয়ে ভালো করার লক্ষ্য আমার ছেলেদের। দল বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

এদিকে প্রতিপক্ষ সিরিয়াও কিন্তু স্বস্তিতে নেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। শারীরিক ফুটবল আর কাউন্টার অ্যাটাকে সিরিয়া সবসময়ই বিপজ্জনক। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের অতীত রেকর্ডও আছে তাদের। তবে ভারতের কাছে পরাস্ত হওয়া সিরিয়াকে হারানোর সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ফুটবলাররা।

জেরার্ড জোন্স বলেন, ‘মাঠ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। এখানকার পিচ দারুণ। ভেন্যু নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে চাই না।’

তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় শুরু হবে এই দু’দলের লড়াই। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফরোয়ার্ডরা যদি গোল খরা কাটাতে পারেন, তবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। কোটি ভক্তের চোখ এখন যুবাদের ওপর মাঠের বাইরের ঝড় সামলে তারা কি পারবেন সিরিয়ার দুর্গ চুরমার করতে?

এসএস