দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যতম বিতর্কিত অঞ্চল স্কারবারো শোল বা হুয়াংইয়ান দ্বীপ। স্কারবারো শোল নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বেশ পুরনো। দ্বীপটিকে নিজেদের দাবি করে সেটিকে বাজো দে মাসিনলক নামে বলে অভিহিত করে ফিলিপিন্স।
এবার এ বিশেষ অঞ্চলে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক মহড়া করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড। একই দিন সেখানে নৌ মহড়া চালায় চীনের কোস্ট গার্ডও। সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে—এমন কিছু দেশের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা চীনা সামরিক বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের এ মহড়াকে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির পরীক্ষা বলে অভিহিত করেছেন।
চাইনিজ একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর গবেষক ইয়াং জিয়াও জানান, মহড়া পরিচালনার জন্য মধ্য-শরৎ উৎসবের ছুটির সময় বেছে নেয়াটা প্রমাণ করছে, চীনের সামরিক বাহিনী ও কোস্ট গার্ড উচ্চ স্তরের যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে তারা যুদ্ধে জড়াতে পারে।
আরও পড়ুন:
জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝাং চি বলেন, ‘সেনাবাহিনী প্রধানত সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। কৌশলগত প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করে, যা সমগ্র অভিযানকে শক্তিশালী সমর্থন ও সহযোগিতা জোগায়। অন্যদিকে, কোস্ট গার্ড ও সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়মিত আইন প্রয়োগ ও পরিস্থিতি মোকাবিলার দায়িত্ব পালন করে। এ মহড়া ও অনুশীলনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উন্নত আকাশ ও সামুদ্রিক সম্পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাদের আকাশ-সমুদ্র সমন্বয়, দ্রুত সহায়তা এবং সিস্টেম-ভিত্তিক যুদ্ধ সক্ষমতা পরীক্ষার অনুশীলন ছিল। গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কতা, দ্রুত কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়া, যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধারসহ বিভিন্ন যুদ্ধ-ভিত্তিক মহড়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুশীলনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উন্নত আকাশ ও নৌ যান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফিলিপিন্স এ মহড়াকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির দাবি, চীনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জলসীমায় আধিপত্য বিস্তার করতেই এ সামরিক শক্তির প্রদর্শন করেছে বেইজিং। যা দক্ষিণ চীন সাগরের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াবে।




