ধ্বংসস্তূপ মাঝেই ফিলিস্তিনে আবারও মাঠে ফিরছে ফুটবল

ফিলিস্তিনের ফুটবল মাঠ
ফিলিস্তিনের ফুটবল মাঠ | ছবি: সংগৃহীত
0

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে ঘরবাড়ি, নিভে গেছে হাজারো প্রাণ। কিন্তু স্তব্ধ করে দেয়া যায়নি বেঁচে থাকার অদম্য আকুতি। ইসরায়েলের ভয়াবহ আগ্রাসনে দীর্ঘ তিন বছর ধরে যেখানে বন্ধ ছিলো সব খেলাধুলা, সেই ফিলিস্তিনে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবল। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ফিলিস্তিনে পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে ঘরোয়া ক্লাব ফুটবল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর-ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিমিষেই বদলে গিয়েছিল ফিলিস্তিনিদের জীবন। বোমার গর্জন, স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর নিত্যদিনের অনাহারে গাজা হয়ে ওঠে এক জীবন্ত বিভীষিকা। তবে সেই বিভীষিকার মধ্যেও একটু শান্তির পরশ খুঁজে নিতে খেলাধুলাকে আঁকড়ে ধরেছিল ফিলিস্তিনিরা।

শরণার্থী শিবিরের ধুলোবালি আর তাঁবুর ভেতরে সামান্য প্রজেক্টর বা ছোট বড় স্ক্রিনে তারা উপভোগ করেছে বিশ্বকাপের উত্তাপ। এক মুহূর্তের জন্য হলেও ফুটবল তাদের ভুলিয়ে দিয়েছিল মৃত্যুর ভয়, জুগিয়েছিল বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।

সুদীর্ঘ তিন বছরের নীরবতা ভেঙে অবশেষে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা দিয়েছে ঘরোয়া লিগ ফেরানোর। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এ প্রতিযোগিতা। সংস্থার সভাপতি জিবরিল রাজুব জানান, দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ১ হাজার ১৪ ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই বীরদের স্মরণে এ টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয়েছে ‘থাউজেন্ড মার্টার্স কাপ’ বা ‘হাজার শহীদের কাপ।’

এ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ২০০টিরও বেশি ক্লাব। যার মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি দল রয়েছে। একই সাথে তিনটি অঞ্চলে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট

ফুটবল ফিলিস্তিনিদের কাছে কেবল কোনো খেলা নয়; এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষা, জাতীয় পরিচিতি এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাসমূহের কাছে সমঅধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে ফিলিস্তিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে-সমস্ত ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও তাদের জাতীয় চেতনা অক্ষুণ্ণ থাকবে, ফুটবল মাঠে আবার বাজবে জীবনের জয়গান।

জেআর