জার্সি কি শুধুই একটি পোশাক? নাকি সেটাই কখনো কখনো হয়ে আত্মবিশ্বাস, ইতিহাস আর বিশ্বাসের প্রতীক? আর্জেন্টিনার গাড় নীল জার্সি ঘিরে এমনই এক গল্প আবার ও আলোচনায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই নীল জার্সি পরেই দারুণ ভাবে প্রত্যাবর্তন করে ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তে।
আকাশী সাদা নয়, সেমি ফাইনালে আর্জেন্টিনার পছন্দ ছিলো গাঢ় নীল জার্সি। ম্যাচের আগে অনেকেই একে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিলেও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে এটি সৌভাগ্য আর গৌরবের প্রতীক।
এ নীল জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের অবিস্মরণীয় রাত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড আর শতাব্দীর সেরা গোল দুটোই এসেছিলো এই নীল জার্সি গায়ে। ১৯৯৮ সালেও ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি বহন করে একই রঙ।
আরও পড়ুন:
আটলান্টার সেমিফাইনালের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে এন্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু হাল ছাড়েনি মেসি বাহিনী। শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজের সমতায় ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। আর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলে শুরু হয় উল্লাস।
ম্যাচের আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলও হেসে বলেছিলেন, এমন বিশ্বাস যদি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়,তাহলে তাতে দোষের কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই সত্যি প্রমাণ করে আর্জেন্টিনা।
নীল জার্সির মাহাত্ম্য সত্যিই আছে নাকি এটি একটি মানসিক শক্তির প্রতীক সেই বিতর্ক চলতেই পারে। তবে ইতিহাস যখন বারবার একই গল্প বলে, তখন সেই নীল জার্সি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে শুধু পোশাক নয় বরং জয়ের অদম্য বিশ্বাস হয়ে দাঁড়ায়।




