কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় পেতে আর্জেন্টিনাকে খেলতে হয়েছে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। শুরুর ১০ মিনিটে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। বেশ কয়েকবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে ক্রস ফেলে তারা ভীতি ছড়ানোর চেষ্টাও করে।
তবে ম্যাচের ১০ম মিনিটেই খোলস ছেড়ে বের হয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেয়া দারুণ এক কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। আর এই গোলের জোগান দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ১০টি অ্যাসিস্ট করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে লিড নেয়ার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় আর্জেন্টিনা, যার ফলে বল পজিশনে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।
আরও পড়ুন:
বিরতি থেকে ফিরেই ঘুরে দাঁড়ায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুইস ফরোয়ার্ড দান এনদয়ে দূরহ এক কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান।
তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সুইসদের। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের তারকা স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা পেয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সুইসদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পারায় নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে আর্জেন্টিনার। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই যেন অতিরিক্ত সময়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সুইসদের রক্ষণ দেয়ালে অনবরত আক্রমণের পর অবশেষে ১১২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার দুর্দান্ত এক গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আর ম্যাচের একেবারে শেষ সেকেন্ডে, সুইজারল্যান্ড যখন অলআউট আক্রমণে ব্যস্ত, তখন এক চোখধাঁধানো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইসদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর তাতেই ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।




