গতকাল (বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বেনফিকার বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো এক গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। এই গোলই হওয়ার কথা ছিল চায়ের আড্ডার মূল আলোচ্য বিষয়, খবরের পাতার মূল শিরোনাম। কিন্তু এর পরিবর্তে ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় এমন এক বিষয়, যা ফুটবল থেকে মুছে ফেলতে পারলেই হয়তো খুশি হতেন ক্রীড়াবিদরা।
দারুণ গোলটি করার কিছুক্ষণ পরই বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ভিনিসিয়াস। অভিযোগের তীর বেনফিকার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির দিকে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। প্রেস্টিয়ান্নির পাশে দাঁড়িয়েছেন হোসে মরিনহোও। সাবেক মাদ্রিদ কোচ আঙুল তুলেছেন ভিনির দিকেই।
ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেন, ‘এই প্রতিভারা অনেক সুন্দর কাজ করতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে শুধু সেই অবিশ্বাস্য গোল করেই খুশি থাকেনি। এমন গোল করলে সম্মানজনকভাবে উদযাপন করা উচিত।’
আরও পড়ুন:
রিয়াল মাদ্রিদে আট বছর ধরে খেলছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। এসময়ের মাঝে গুনে গুনে ২০ বার বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। অধিকাংশ সময় ব্রাজিলিয়ান এই তারকা বর্ণবাদের শিকার হওয়ার পর তার আচরণকেই পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বিষয় দুটি যে সম্পূর্ণ আলাদা, এটা যেন কেউ বুঝতেই চান না।
১৯৫২ সালে ফ্র্যাঞ্জ ফানন তার বই ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কসে লিখেছিলেন, ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে দ্বিগুণ লড়াই করতে হয়। ভিনিসিয়াসের ক্ষেত্রে সেটা যেন আরও কয়েকগুণ বেশি। অনেকবারই ভিনির আচরণকে অতিরঞ্জিত দাবি করে তার প্রতি হওয়া বর্ণবাদী আচরণকে স্বীকৃতি দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
বারবার বর্ণবাদের শিকার হওয়া ভিনি কতটুকু বিচার পেয়েছেন? ২০২১ সালের অক্টোবরে ন্যু ক্যাম্পে বর্ণবাদী গালি শুনলেও কে এই কাজ করেন তা শনাক্ত না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পাঁচ মাস পর মায়োর্কার সমর্থকরা তার দিকে বানরের আওয়াজ ও নেতিবাচক মন্তব্য করে। সেবারও কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি।
২০২২ সালের অক্টোবরে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বা একই বছরের মে মাসে ভ্যালেন্সিয়ায় বর্ণবাদের শিকার হন ভিনি। এর আগে একটি সেতুতে তার জার্সি পরা একটি পুতুলকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। শুরুর দিকে বিচার না পেলেও ধীরে ধীরে গলছে সেই বরফ। ২০২৪ সালের জুনে ভিনির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সমর্থককে আট মাসের কারাদণ্ড দেয় স্পেনের আদালত।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন ভিনি। তবুও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বর্ণবাদী আচরণ। দিনের পর দিন ঘৃণ্য এ আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন মাদ্রিদ তারকা। ফুটবল একদিন বর্ণবাদমুক্ত হলে তবেই হয়তো সার্থক হবে তার লড়াই।





