নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরেও বিসিবি কার্যালয়ে আপাতত নীরবতা। খসড়া ভোটার তালিকার ওপর আপিল এবং শুনানির তারিখেও ছিল না কাউন্সিলরদের ভিড়। কোনোপ্রকার পরিবর্তন ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বিসিবি। যেখানে ১৯২ জনের নাম থাকার কথা থাকলেও আছে সেই ১৮৪ জনেরই নাম।
বিসিবির এই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আছেন একাধিক সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীপুত্র। আছেন সংসদ সদস্য কিংবা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত অনেকেই। আবার সাবেক খেলোয়াড় কোটায় মনোনয়ন পাওয়া সৈয়দ রাসেল একসময় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য ছিলেন। যদিও বর্তমান অ্যাড-হক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিসিবির কাউন্সিলররা এসেছেন।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটি সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘যেহেতু এটা ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন, সেই ক্ষেত্রে এখানে ডিসি সাহেবরা অত্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন যারা আছে তাদেরকে নির্বাচিত করে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করে এখানে পাঠিয়েছে। সুতরাং এখানে এটার ব্যতিক্রম কিছু নয়, এটা একটা জিনিস আপনাদের মনে রাখতে হবে একজন ক্রীড়া সংগঠক হতে হলে বা কাউন্সিলর হতে হলে এখানে কে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এগুলো দেখার বিষয় নয়।’
আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকায় আলোচিত নাম জাহিদ পারভেজ চৌধুরী। পেশাদার ক্যারিয়ারে ফুটবলার হলেও এনএসসির মনোনয়ন পেয়ে এখন তিনি ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিকভাবেও বেশ সক্রিয় জাহিদ পারভেজ। সাবেক ফুটবলারের কাউন্সিলর পদ নিয়ে এনএসসি পরিচালক আমিনুল এহসানের ভাষ্য, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চাইলে যে কাউকে কাউন্সিলর মনোনয়ন দিতে পারেন। এক্ষেত্রে পরিচয় মুখ্য নয়।
সাবেক পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের চোখে এমন সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ। তবে রফিকুল ইসলাম বাবু বলছেন, একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবেই জাহিদ পারভেজকে বিসিবিতে আনা হয়েছে।
বিসিবির সাবেক পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রিকেটের কাউন্সিলরশিপ কিভাবে দেয়া হয়েছে সেটা যারা দিয়েছে তারা ভালো বলতে পারবে। কারণ হচ্ছে যে নিশ্চয়ই ওরা যথেষ্ট পরিমাণে ক্রিকেটার কাউন্সিলর হিসেবে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ভালো এবং উপযুক্ত ক্রিকেটার ওরা খুঁজে পায় নাই, ক্রিকেট সংগঠক খুঁজে পায় নাই, তাই একজন ফুটবলারকে দিয়েছে ওরা। এটার আর আমার কাছে এর থেকে ভালো কি যুক্তি থাকতে পারে?’
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মূল কাউন্সিলর ১৯২ জন হলেও বিসিবির চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আছেন ১৮৪ জন। আগামী ৭ জুন তারাই নির্ধারণ করবেন পরবর্তী চার বছরের ক্রিকেট কর্তাদের।




