পারিশ্রমিক ইস্যুতে বারবার প্রতারণা করেও ক্ষান্ত হননি দুর্বার রাজশাহীর কর্ণধার শফিকুর রহমান। এমনকি সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সীমাও মানেননি তিনি। ক্রিকেটারদের পাওনা শোধ না করে আবারও যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক।
পারিশ্রমিক ইস্যুতে রাজশাহীর কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে দেশের ক্রিকেটে এঁকেছে কলঙ্কের দাগ। টাকা না পেয়ে ক্রিকেটারদের অনুশীলন বর্জন কিংবা ম্যাচ না খেলার ঘটনাও আলোচনা জমিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে। একাধিকবার চেক বাউন্স, সবশেষ ভাড়া না পেয়ে ক্রিকেটারদের কিটব্যাগ জব্দ করেন বাস ড্রাইভার- যে দৃশ্যের দেখা মেলে না পাড়ার ক্রিকেটেও।
ক্রিকেটের স্বার্থে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বারবার তাগাদা দেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নিরুপায় হয়ে সবশেষ গেল ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর মালিককে আইনি হেফাজতে এনে আলোচনা চালায় সরকার। যেখানে ৩, ৭ ও ১০ ফেব্রুয়ারি, এই তিন কিস্তিতে ক্রিকেটারদের সব পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেন শফিকুর রহমান।
তবে মুখের কথা মুখে রইলেও বাস্তবতা অন্য, ক্রিকেটারদের ৭৫ শতাংশ অর্থ তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত মোট অর্থের ৫০ শতাংশ অর্থও বুঝে পাননি অধিকাংশ ক্রিকেটার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটারের দাবি, দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার এখন পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ। ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৭৫ শতাংশ দেয়ার কথা থাকলেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না দলটির মালিকপক্ষের সাথে।
দলটির টিম ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপিও এখন পর্যন্ত বুঝে পেয়েছেন মাত্র ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় দুর্বার রাজশাহীর মালিকপক্ষের সাথে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ক্রিকেটারদের দেয়া অভিযোগ স্বীকার করে আবারও আশ্বাস দেন, দ্রুতই পরিশোধ করা হবে সবার পাওনা।
সরকারের বেঁধে দেয়া সময় একদিন পিছিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি আবারও প্রতারিত রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। তারিখের পর তারিখ পেয়ে বারবার প্রতারিত হয়ে যেন ক্লান্তি চলে এসেছে ক্রিকেটারদের মাঝেও। কিন্তু এ খেলার শেষ কোথায়? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো দেশের ক্রিকেট।