ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতে কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি; বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্তের শঙ্কা

ইয়েমেন-সৌদি যুদ্ধ পরিস্থিতি
ইয়েমেন-সৌদি যুদ্ধ পরিস্থিতি | ছবি: সংগৃহীত
0

তীব্র সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সম্পর্ক। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষের। চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে নিহত হয়েছেন ১৪ জন বাংলাদেশি, বাড়ছে কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। তৈরি হচ্ছে কাজ হারানোরও শঙ্কা। এমন বাস্তবতায় মক্কা চুক্তিকে সরল সমীকরণে না দেখার পরামর্শ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ। সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এর সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অস্থিরতায় ঝুঁকির মুখে পড়ছে বেসামরিক মানুষের জীবন, ব্যাহত হচ্ছে বিমান চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে নিহত হয়েছেন ১৪ বাংলাদেশি। সবশেষ গেল শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩০৯ নাগরিক। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৭ বাংলাদেশি। এছাড়া চলতি মাসের ৪ অক্টোবর দেশটিতে অপর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন কুমিল্লার সজিব হোসেন নামের আরেক বাংলাদেশি।

বহুমাত্রিক সংকট সামনে নিয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে সৌদি আরবে থাকা প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এসব কর্মীর কাজ হারানোরও শঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্তকতাসহ মালিক পক্ষের কাছেও দূতাবাসের বার্তা পৌঁছানোর পরামর্শ তাদের।

আরও পড়ুন:

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমবে; আরেকটা হচ্ছে, যারার ওখানে আছেন, তাদের কাজ কমবে এবং সেইসঙ্গে রেমিট্যান্সও কমবে। এ বছর আট মাসে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ফেরত এসেছেন, তার মানে ফেরত আসা বাড়বে।’

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘যেসব জায়গায় আমাদের কর্মীরা কাজ করেন, সেসব এমপ্লয়ারের কাছেও যদি আমাদের তথ্য পৌঁছানো যায় দূতাবাসের মাধ্যমে যে, সব দেশের নাগুরকের মতো বাংলাদেশের নাগরিকদেরও দেখভাল করার ব্যাপারে তাদের একটা দায়িত্ব আছে। আর হচ্ছে, যদি এরকম হয় যে, কিছু ব্যক্তি মনে করছেনে, তারা দেশে ফেরত আসতে চান, সেটার একটা প্রস্তুতি রাখতে হবে। হয়তো তারা নিজেদের উদ্যোগেই আসার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তারা মনে করেন যে, সেখানে থাকা নিরাপদ নয়।’

এমন বাস্তবতায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো সামরিক সমীকরণে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নে আবেগ নয়, প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থের বাস্তব মূল্যায়ন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই মক্কা চুক্তির বিষয়ে যদি আমরা সরাসরি অংশগ্রহণ করি, আমাদের বিপদও হতে পারে। তাই আমাদের বুঝে-শুনে, চিন্তা-ভাবনা করে এগোনো উচিত।’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের বিস্তার কত দূর গড়াবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ