বর্তমানে ঢাকার সড়কে চলাচলকারী বাসে ওপর যাত্রীচাপ সীমাহীন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, মানহীন সেবার কারণে ঢাকার গণপরিবহন এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক ভোগান্তির নাম।
পরিবেশবান্ধব সবুজ গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যে দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে ১ হাজার ৪১২টি বৈদ্যুতিক বাস নামানোর মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি ই-বাস এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরে এই বহর বাড়িয়ে ২০০টি করার নীতিগত প্রস্তাব গৃহীত হয়।
ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন, লোডশেডিং সামাল এবং পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়গুলো সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এমন অবস্থায় আধুনিক সেবাদানে রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস কতটা সফলতার মুখ দেখবে— সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।
ইলেকট্রিক বাস চালুর আগে রাস্তাঘাটের আধুনিকায়ন, চার্জিং ডিপো নির্মাণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা উচিত বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতি ও বিকল্প বাসের ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ ই-বাস নামালে তা দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করেন তারা।
আরও পড়ুন:
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘এজন্য ম্যানপাওয়ার তৈরি করতে হবে, স্টোর পার্সোনেল তৈরি করতে হবে, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্টের জন্য লোকবল তৈরি করতে হবে। তারপর কোথায় আপনি কারেন্ট দেবেন, সেখানে কিন্তু একটা বিশাল জায়গার দরকার আছে—এগুলো না করে যাতে বাস না আনা হয়। এগুলো না করে বাস আনলে কিছুদিনের ভেতরেই বাসগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।’
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকট্রিক বাস চালুর ক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারকে ন্যাশনাল গ্রিডের বাইরে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে হবে। পাশাপাশি চলতি পথে চার্জিং সাপোর্ট এবং ই-বাসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষিত ও সুদক্ষ জনবল তৈরি করা জরুরি।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, এটা কিন্তু একটা ম্যাসিভ ট্রানজিশন, শুধু প্রকিউরমেন্টের বিষয় নয়। আমি টাকা থাকলে ২০০টি বাস কিনতেই পারি, কিন্তু এটার জন্য যে সাপোর্টিং ব্যবস্থাপনা— ডিপের কথা বলছি, বিকল্প বিদ্যুতের কথা বলছি, আমি টেকনিশিয়ানের দক্ষতা প্রশিক্ষণের কথা বলছি, হাইভোল্টেজ এরিয়ায় কাজের যে সক্ষমতা তৈরি করা, নিরাপত্তা—সেই ব্যবস্থাপনাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতেও দেখেছি, বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো, ভালো বাস সড়কে আমরা নামিয়েছি, কিন্তু এটা আমরা দীর্ঘমেয়াদি চালাতে পারিনি। যাত্রীর চাহিদার বিপরীতে চালান— এর মধ্যে একটা বিশাল ঘাটতি। এই ঘাটতির কথাও মাথায় রাখতে হবে।’
সব বাধা পেরিয়ে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির এই বাসগুলো ঢাকার চিরচেনা যানজট ও দূষণজর্জর রাস্তাকে স্বস্তির করিডোরে রূপান্তর করবে— এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ নগরবাসীর।





