একদিকে বাড়ছে গ্যাস সংকট, অন্যদিকে বাড়তি দামে এলএনজি দিয়ে উৎপাদন করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ। সাথে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল অঙ্কের বকেয়া বিলের চাপ।
এমন অবস্থায় দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বলানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এবার এই খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে খুচরা বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিতে চায় সরকার। শুধু বিদ্যুৎ নয়, তেল আমদানিতেও বিপিসির সাথে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার ঘোষণা দিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গভর্মেন্ট ক্যান নট ডু রিটেল বিজনেস। আই ক্যান প্রডিউস, আই ক্যান গো ফর জেনারেশন, বাল্ক আমি বিক্রি করতে পারি, বাট নট দ্য রিটেল। রিটেল শুড বি উইথ দ্য প্রাইভেট। তো ডিস্ট্রিবিউশনটা আমরা প্রাইভেট করতে চাই এবং প্রাইম মিনিস্টার হ্যাজ গিভেন মি আ কনসেন্ট—ইউ গো এহেড।
বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপরেখা নিয়ে এক আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার জ্বালানি খাতকে আমদানি-নির্ভর করে গেছে, সাথে ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে চলতে হচ্ছে সরকারকে। এমন অবস্থায় সৌর-বিদ্যুতে জোর দিয়েছে সরকার। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সবার কো-অপারেশন পাই, বাই দ্য এন্ড অফ আওয়ার টার্ম, আই ক্যান লিভ বিহাইন্ড ১০,০০০ মেগাওয়াট। দ্যাট ইজ মাই টার্গেট। আর আপনার সোলারের তো আমরা যে ফ্যাসিলিটি দিয়েছি ট্যাক্স হোলিডে থেকে শুরু করে যেসব সুবিধা দিয়েছি আমরা—যেসব বাড়িতে আপনার সোলার প্যানেল লাগাবে, তাদেরকে আমরা মিউনিসিপালিটি ট্যাক্স রিবেট দেবো।
এদিকে, তিতাস গ্যাস বলছে, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিপাকে আছে তারা নিজেরাই।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, টোটাল ফ্র্যাঞ্চাইজ এরিয়ার মধ্যে আমার ১২টা-১৩টা জেলা আছে। যতগুলো মানে ইন্ডাস্ট্রি আছে সেগুলোকে যদি আমি স্মুথলি অপারেট করতে চাই, আমার গ্যাসের ডিমান্ড হচ্ছে ২২০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট। তো সেই জায়গার মধ্যে আমি যদি ১৭০০ পাই, তাহলে স্মুথলি মোটামুটি চালাতে পারি। স্পেশালি গাজীপুর এরিয়াটা খুবই গ্যাস ক্রাইসিস চলছে। আর আবাসিকের কথা বাদই দিলাম, এটা তো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের জন্য দায় আওয়ামী সরকারের সময়ে অবৈধ চুক্তি, নীতিগত দুর্বলতা ও অদক্ষতা বলে মন্তব্য করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
গ্যাস সংকট কাটাতে পুরনো কূপে ওয়ার্কওভার ও গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে সরকারকে পরিকল্পনা হাতে নেয়ার পরামর্শ দেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ তাদের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে আছে বিকজ ক্রুড আনতে পারছি না আমরা। আওয়ার রিফাইনারি ইজ ফুললি ডিপেন্ডেন্ট অন সৌদি আরব অ্যান্ড ইউএই ক্রুড। বন্ধ হয়ে আছে, পারছি না। এটা যদি ডাইভার্স একটা থাকত, সোর্স থাকত, তাহলে হয়তো আমরা সেখান থেকে আনতে পারতাম।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, এখানে দুইটা জিনিস দরকার। একটা হচ্ছে কো-অর্ডিনেশন দরকার, আর সাহসী সিদ্ধান্ত দরকার। যে আমি চাই, করব এটা, তাহলে হবে। আপনি প্রাইস কমাবেন, ট্যাক্স বাড়ায়ে দিচ্ছেন, তো প্রাইস কমবে কীভাবে?
জ্বালানি সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিল্পখাতে ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহ হারাবে বলে আলোচনায় মত দেন বক্তারা।





