পূজোই যেন নতুন রূপে সাজে দক্ষিণ কলকাতা। এবার দক্ষিণ কলকাতায় ব্যতিক্রমী থিম নিয়ে হাজির চেতলা অগ্রণী ক্লাব। তাদের প্যান্ডেলের থিম বিশ্বরূপে বিশ্বরূপিণী।
মণ্ডপের ভেতরে কারুকার্য করা হয়েছে খড় দিয়ে। প্রভু জগন্নাথ দেবের দশ রূপ রথ দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণসহ মহাভারতের একাধিক খণ্ডচিত্র মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। ভেতরে রয়েছে অল্প আলোয় মায়াবী খেলা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে ঢুকতে পারলেও কোনো ক্লান্তি নেই দর্শনার্থীদের মধ্যে। এই জনস্রোত বহাল থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত।
ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার এই ফার্স্ট টাইম আসা, আমার খুব ভালো লেগেছে। থিমটাও সুন্দর এবং ঠাকুরের পিছনে যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা করেছে ওটার যে প্রজেকশন ওটা আরোই সুন্দর লাগলো।’
আরও পড়ুন:
দর্শনার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘থিমটা খুব সুন্দর করেছে। ওখানে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণটা দেখলাম। হ্যাঁ, ভালো লাগলো। বাঙালির এক বছরের অপেক্ষা এটা। এটা যদি বাঙালি মিস করে, এটা বাঙালি আবেগ, বাঙালি ঐতিহ্য।’
এই দক্ষিণ কলকাতাতে রয়েছে সবচেয়ে প্রাচীন বারোয়ারি দুর্গাপূজা। ১১৭ বছর ধরে এখানে পূজার আয়োজন করছে ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা। কলকাতার প্রথম বারোয়ারি পূজা এটি। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এলাকায় বলরাম বসু ঘাটে ১৯১০ সালে এই পূজার প্রচলন হয়।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘সমস্ত মানুষকে এই পুজোয় শামিল করা, একত্রিত করা—এই লক্ষ্যকে সঙ্গে নিয়েই এই সর্বজনীন পুজো আমাদের পাড়ায় শুরু হয়েছিল।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘পুজোটা একটা অন্যরকম ইতিহাস। যার জন্য আজও আপনি যে আমাদের পুজো ঠাকুর যদি দেখেন, মাতৃপ্রতিমা তার কোনো পরিবর্তন নেই।’
সেই থেকে পূজার ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা ও পরম্পরায় কোনো ছাপ পড়েনি। পূজার পাঁচ দিন পাঁচজন পুরোহিত রীতি মেনে পূজা-অর্চনা করেন। এমনকি পূজার সময় এখানে সানাই বাজানোর রীতি আছে।
এর আগে মহাষষ্ঠীর রাতে লাল-নীল বাহারী রঙে সেজে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। শুধু প্যান্ডেল নয়, পূজা উপলক্ষে নিয়ন আলোর বর্ণিল ঝলকানি কলকাতার সড়কেও।





