নেত্রকোণার সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মামলা হয়নি

নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির | ছবি: এখন টিভি
0

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাবেক সেনাসদস্য ও সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির ‘রূপসী বাংলা’ নামে একটি বেসরকারি আইপিটিভির নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।

আজ (শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও দুর্গাপুর থানায় এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। তবে তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতী সাংমা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। রাতেই থানায় অভিযোগপত্র দায়ের হতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শুক্রবার নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে কলমাকান্দার পুগলা ইউনিয়নের চরুলিয়া মাইজপাড়া ফকিরবাড়িতে দাফন করা হয় নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকিরকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলঞ্জি এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির সামনের চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির। পরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে একটি নাইন মিলিমিটার তাজা গুলিও উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও দোকান মালিক রবিন রাংসা জানান, রাতে দোকানে চা-সিগারেট খাচ্ছিলেন আলিফ ফকির। একপর্যায়ে আরও দুজন এসে সিগারেট খায়। পরবর্তীতে তারা দোকানে মোবাইল ফেলে রেখে চলে যায়। পুনরায় মোবাইল নিয়ে যাওয়ার সময় ওই দুই যুবক পরপর কয়েকটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের তেরীবাজার সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির। সে মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দুজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই পুরো নেত্রকোণায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সারা দেশেই এখন আলোচনার শীর্ষে এ হত্যাকাণ্ড। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতেও তদন্ত চলমান রয়েছে।

এদিকে শেরপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা জানান, নেত্রকোণায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে র‍্যাব। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এএইচ