Recent event

আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সামগ্রিক ফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি: ডা. শফিকুর

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক ফলকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ (শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৪৪ মিনিটে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের শুরুতে তিনি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, বিগত মাসগুলোতে যেসব অগণিত স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের অনেকেই নিজের সময়, শক্তি ও বিশ্বাস বিলিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আপনাদের এ সাহস আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।

আমি জানি আপনাদের মধ্যে অনেকেই ব্যথিত এবং গভীরভাবে হতাশ। এটা খুবই স্বাভাবিক। যখন আপনি কোনো আদর্শের পেছনে নিজের হৃদয় ঢেলে দেন, তখন তার ফল আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তবে আমি স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে আমরা সংসদে আমাদের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী জোটে পরিণত হয়েছি। এটি কোনো পরাজয় নয়; বরং এটি একটি ভিত্তি।

জামায়াত আমিরের ফেসবুক স্ট্যাটাস |ছবি: জামায়াত আমিরের ফেসবুক পেজ

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রাজনীতির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল, যেখান থেকে ১৮ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা পুনরায় সরকার গঠন করেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ এখন সুস্পষ্ট: মানুষের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীলতার সাথে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক যাত্রায় নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা কেবল প্রচারণায় নয়, বরং জনগণের রায়কে আমরা কীভাবে গ্রহণ করি তার ওপর নির্ভর করে। শুরু থেকেই আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম। সেই অঙ্গীকার আজও অটল। আমরা সামগ্রিক ফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না। এটি ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে। আমরা একটি সজাগ, নীতিবান এবং শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করব; যেখানে একদিকে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব, অন্যদিকে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখব।’

স্ট্যাটাসের শেষে তিনি বলেন, ‘নীতিবান ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অবিচল।’

এএইচ