এই শহরে রোজকার যাতায়াতে পরিবহন বলতে ভরসা জরাজীর্ণ লোকাল বাস। নগরীতে চলার পথে যার আরেক নাম ভোগান্তি।
নিয়মের তোয়াক্কা না করে ছুটে চলাই এখানে নিয়ম। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, চালক-হেলপারদের দৌরাত্ম্য আর অনিয়ম গণপরিবহনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যা থেকে নিস্তার নেই সাধারণ যাত্রীদের।
রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গাড়ি থামানো নিষেধ। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন কোম্পানির বাস যানজট সৃষ্টি করে যাত্রী তোলায় ব্যস্ত। দেখেও দেখার কেউ নেই। নিরুপায় যাত্রীরা।
যাত্রীদের একজন বলেন, ‘একদমই সন্তুষ্ট না আমরা। যানজট বেড়ে গিয়েছে অনেক।’
আরেকজন বলেন, ‘যেখানে বাস দুই মিনিট থামার কথা সেখানে ১০ মিনিটে দাঁড়িয়ে থাকে এইটা আমাদের জন্য সমস্যা তো।’
তবে চালকরা বলছেন, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে যাত্রীরা বাসে ওঠা-নামা করতে না চাওয়ায় এমন পরিস্থিতি।
চালকদের একজন বলেন, ‘যাত্রী যদি নিয়ম মানে তাহলে আমরাও মানবো।’
চালকদের আরেকজন বলেন, ‘আমাদের তো বাস রাখার একটা স্ট্যান্ড দরকার সেটার তো কোনো কিছুই পাচ্ছি না।’
বাসের এমন অনিয়মের সাথে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় হঠাৎ জুড়ে বসেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। বিশেষ করে ২৪ এর শুরু থেকেই বাড়তে থাকে যার দাপট। গেল বছরের মাঝামাঝির পর যা দখল নিতে থাকে ঢাকার মূল সড়কের। যা দিন দিন যানজট বাড়িয়ে গতি কমাচ্ছে রাজধানীর।
যাত্রীদের একজন বলেন, ‘অটোরিকশা যেটা মেইন রাস্তায় চলার কথা না সেটা চলছে। প্রতিদিন ৬-১০ জনের পা ভাঙছে।’
ট্রাফিক পুলিশের একজন বলেন, ‘প্রথমত তাদেরকে বলছি সরে যেতে। যত্রতত্র গাড়ি না রাখতে। যদি না শুনে তারপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০০৫ সালে কৌশলগত পরিপত্র তৈরি হয়। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও কাঠামোর মধ্যে আনা যায়নি। সে সময় ১২৫টি রুটে গণপরিবহন চলাচলে রুট পারমিট থাকলেও বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩শ'রও বেশি। এতে বাড়ছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক, ‘হাতিরঝিলে সাড়ে ৮ কিলোমিটারের একটা সার্কিট আছে সেখানে একটা কোম্পানি চলে এবং একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে যাত্রী উঠা নামা করে। চালক বেতনভুক্ত। একই জিনিস কিন্তু গুলশানে আছে।’
পরিবহন নেতাদের স্বীকারোক্তি, মালিক-শ্রমিক বিরোধিতায় আলোর মুখ দেখছে না সরকারের উদ্যোগ। কয়েক দফায় কাউন্টার পদ্ধতিতে বাস চলাচল ও টিকিট ব্যবহারের কার্যক্রম হাতে নিলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরো পড়ুন: উত্তর সিটির রাস্তা থেকে উধাও ১ লাখ ৩৫ হাজার গাছ!
ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন, ‘মালিকরা -শ্রমিকরা ৫০ শতাংশ। সব মালিক শ্রমিক না। এরা গোপনে বিরোধিতা করে আমাদের। কারণ এই মালিক-শ্রমিকরা গত ১৪ বছর যাবত গাড়িগুলো চুক্তিভিত্তিক চালায়। পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনার জন্য যা যা করণীয় তা আমরা সহযোগিতা করবো। আমরা কথা দিয়েছি এই সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা দরকার।’
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, বিগত সরকারগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবহন খাতকে ব্যবহার করলেও পুরোনো সংস্কৃতি বদলানোর সময় এসেছে। গণপরিবহন সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রকৌশল ও কারিগরি জ্ঞানকে গুরুত্ব দেয়াসহ সমস্যার মূলে হাত দেয়ার তাগিদ তাদের।
ঢাকার বাস কবে নির্ধারিত রুট ধরে চলাচল করবে আর কবেই বা ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ আনা যাবে? এমন প্রশ্ন যখন নগরবাসীর মনে, তখন সরকারি সংস্থা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কী উদ্যোগ?
ডিটিসিএয়ের ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, ‘মারামারি করে সে রাস্তায় জ্যামের সৃষ্টি করে। এর থেকে আপনি বেতন দিয়ে চালান সেটা মোটিভেশনের বিষয়। সময়ের ব্যাপার একটা। চালকদেরও বোঝার বিষয়। আমরা এইটা নিয়ে কাজ করছি। তাই বলে এখনই দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে তা কিন্তু না। দুুই সিটি করপোরেশন নীতিমালা খসড়া তৈরি করছে।’