শব্দগুলো অনেকের কাছে অপরিচিত, কিন্তু মায়ের মুখে শোনা প্রথম বুলির মতো আপন আর কি হতে পারে?
নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রধান উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানান নানান ভাষাভাষী শিশুরা।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চারদিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন তিনি।
এ সময় ড. ইউনূস বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ভিত রচিত হয়।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘মাতৃভাষা যে কোন নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বাহক। কিন্তু একটি নতুন ভাষা শিখলেই পুরোনো ভাষায় দুর্বল হয়ে পড়ে না।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে একই নাগরিক সাবলীলভাবে কয়েকটি ভাষায় কথা বলবে এটা খুবই স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয়। তারা শৈশব থেকে নানা ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। স্কুলে পড়ার সময় প্রত্যেক ছাত্রকে অন্তত একটি ভিন্ন ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হয়। ছাত্ররাও আনন্দ সহকারে সেটা করে থাকে। ইংরেজি শিখলেই বাংলা ভুলে যেতে হবে এরকম কোনো চিন্তা তাদের কারো মাথায় আসে না। আমরা দ্রুত গতিতে নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। এর জন্য মূলত নিত্য নতুন প্রযুক্তি প্রধানত দায়ী।
প্রযুক্তির উন্নয়ন হলে সে দেশের ভাষা শেখার জন্য পৃথিবীর মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে- বিশ্বে বাংলা ভাষার মর্যাদা বাড়াতে জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে বলেও মনে করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রযুক্তির প্রাধান্যের সঙ্গে আসে ভাষার প্রাধান্য। যে দেশের প্রযুক্তি পৃথিবীতে প্রাধান্য অর্জন করতে থাকবে তার সঙ্গে প্রাধান্য অর্জন করতে থাকবে প্রযুক্তিদাতা দেশের ভাষা। সারা পৃথিবী এই ভাষা শেখার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে। যে দেশ পৃথিবীতে নেতৃত্ব দেবে পৃথিবী সে দেশের ভাষার দিকে ঝুঁকে পড়বে-এটাই নিয়ম। যে দেশের কিছু দেওয়ার নেই, সে দেশের ভাষাতেও পৃথিবীর আগ্রহ নেই।’
অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখায় ভাষাবিদ অধ্যাপক আবুল মনসুর মো. আবু মুসা এবং ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য ভূমিকা রাখায় প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক প্রসারে ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক পদক দেয়া হয় জোসেফ ডেভিড উইন্টারকে।