একুশে পদক একা নিতে সম্মত নন, বন্ধুদের নিয়েই গ্রহণ করবেন অভ্র নির্মাতা

দেশে এখন
0

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল চলতি বছর একুশে পদক পাচ্ছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে ২০২৫ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলা কিবোর্ড সফটওয়্যার অভ্রর নির্মাতা মেহেদী হাসান খান। তবে তিনি একুশে পদকের একক কৃতিত্ব নিতে চান না। মেহেদী হাসান জানান, তার আরো তিন বন্ধু ‘অভ্র’ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাই অভ্রের পুরো দল সম্মিলিতভাবে একুশে পদক নেবেন।

আজ (রোববার, ৯ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভ্রর ফেসবুক পেজে মেহেদী হাসান খান এ সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন।

ফারুকী তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আজকে খুলেই বলা যায়, আমরা জানতাম মেহদী হাসান খান পুরস্কার গ্রহণ করতে আগ্রহী না। এর আগেও তাকে অ্যাপ্রোচ করা হয়েছিল। তিনি পুরস্কার না নিতে পারেন জেনেও আমাদের ক্যাবিনেট থেকে আমরা পুরস্কার ঘোষণা করতে সম্মত হই। এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চেয়েছি আমরা কাদের সেলিব্রেট করবো।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘কালকে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তিনি তখন অসম্মতই ছিলেন। ফাইনালি তিনি পুরস্কার নিতে সম্মত হন। কিন্তু তিনি একা এই কৃতিত্ব নিতে চাননি। তার আরও তিন বন্ধু- রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম এবং শাবাব মুস্তাফা- যারা অভ্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাদের ছাড়া তিনি পুরস্কার নিতে চাননি।’

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যাওয়া এই চার গুণীকেই অভ্র’র জন্য দলগতভাবে একুশে পদকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা আরো লিখেছেন, ‘তারা চার বন্ধুই পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে আসছেন পুরস্কার গ্রহণ করতে। ক্যান্ট ওয়েট টু ওয়েলকাম ইউ অল। আই অ্যাম শিওর দিজ ইজ গোয়িং টু ইনসপায়ার আ লট অব ইয়াং পিপল টু মুভ ফরওয়ার্ড নো ম্যাটার হোয়াট। বাংলাদেশ, অনওয়ার্ডস অ্যান্ড আপওয়ার্ডস।’

অন্যদিকে অভ্রের ফেসবুক পেজে মেহেদী হাসান খান লিখেন, ‘আমি সবাইকে খুশি করতে পারবো না। কিন্তু দলের কাজের কৃতিত্ব একক ব্যক্তি না পাক, আমার সামর্থ্য দিয়ে এটুকু চেষ্টা করতে পারি। একুশে পদক ঘোষণার পরে অ্যাডভাইজার ফারুকী ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ হলো। ওনাকে ব্যাপারটা বোঝাতে খুব বেশি চেষ্টা করতে হয় নাই, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। ২০০৩ সাল থেকে অনেকে অভ্র কাজে সাহায্য করেছেন, এদের সবার অবদান আছে। কিন্তু শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত আমরা যারা একসাথে কাজ করেছি- রিফাত, সিয়াম, শাবাব, এদের ছাড়া আমি অভ্রর নামে একুশে পদক গ্রহণ করতে পারবো না। উনি মেনে নিয়েছেন, বাকিদেরও রাজি করিয়েছেন। ওনাদের কথা ছিল- পদক গ্রহণ করা বা না করার কথা পরে, রাষ্ট্রের কাজ জানানো যে আপনাদের কাজের জন্য রাষ্ট্র কৃতজ্ঞ, তারা তাই করেছেন। আমিও মেনে নিয়েছি। পরের প্রজন্মের জন্য অভ্রর মিশনটা যদি রেখে যেতে হয়, সাথে আমাদের টিমওয়ার্কটাও উদাহরণ হিসেবে থাকুক। একা একা তো বেশিদূর যাওয়া যায় না। ’

এএম

BREAKING
NEWS
2