আজ থেকেই যাত্রীরা মেট্রোরেলের মিরপুর ১০ স্টেশন ব্যবহার করতে পারছেন। সকাল থেকে এই স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা চলছে এবং এ স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পারছেন নগরবাসী।
এখন থেকে শুক্রবার এক ট্রেন থেকে আরেক ট্রেন ছাড়ার সময় ১২ মিনিট থেকে ২ মিনিট কমিয়ে ১০ মিনিট করা হয়েছে। শুক্রবারের জন্য বাড়ানো হয়েছে ট্রিপের সংখ্যাও।
সড়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সকালে স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিরপুর ১০ মেট্রোরেল স্টেশন পুনরায় চালু করতে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আর কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ মিলিয়ে ১৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে মেরামতে।
তিনি জানান, সহিংসতা পরবর্তী সংস্কারে অন্যান্য স্টেশন থেকেও কিছু যন্ত্রপাতি রেশনিং করা হয়েছে, যা উপযুক্ত সময়ে আমদানি করা হবে। তবে সব মিলিয়ে এই খরচ ১৮ কোটি টাকার বেশি হবে না।
মেট্রোরেলের চলমান প্রকল্পগুলো অবশ্যই রিভাইজ(সংশোধন) হবে বলে জানান সড়ক উপদেষ্টা। অপচয়ের অর্থ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, মেট্রোরেলে অর্থের অপচয় না দুর্নীতি হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলাটা সময় সাপেক্ষ।
সড়ক উপদেষ্টা আরও জানান, যোগ্যতার ভিত্তিতে যাতে মেট্রোরেলের কর্মকর্তা নির্বাচন করা যায় সে লক্ষ্যে মেট্রোরেল নীতিমালায় কিছু সংশোধন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সড়কের অন্যান্য প্রকল্পগুলোতেও ব্যয় কমানোর জন্য সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে এ স্টেশন খুলে দেয়ায় খুশি মিরপুরবাসী। তাদের দাবি জনসেবার এ প্রকল্পগুলোতে আর যেন রাজনীতি দেখা না হয়।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে ডিএমটিসিএলের উত্তরা ডিপোতে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, দেশিয় উপকরণ দিয়ে এই স্টেশন মেরামত করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর চালায় দুবৃত্তরা। এরপর দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত হয়ে যায় মেট্রোরেল চলাচল। সে সময়কার কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেল চালু হতে ১ বছরও লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছিল।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ দিনের মাথায় ২৫ আগস্ট মেট্রো চলাচল শুরু হয়। সে সময় মিরপুর ১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন বন্ধ ছিল। সংস্কার কার্যক্রম শেষে কাজীপাড়া স্টেশন চালু করা হয়। আগামীকাল মিরপুর-১০ স্টেশন চালুর মধ্য দিয়ে সবগুলো স্টেশন সচল হবে।