দেশে এখন

চট্টগ্রামে বেড়েই চলছে পাহাড়ধসের ঘটনা

২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে সর্বোচ্চ ১২৭ জনের প্রাণহানির পরে গঠন করা হয় শক্তশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। ওই কমিটি ৩৬টি সুপারিশ করলেও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ অবস্থায় দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কা। দুর্ঘটনা এড়াতে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রতিবছরেই মতো জরুর সভা করেছে জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম নগরীতে সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে ২৬টি। এসব পাহাড়ে বাস করে সাড়ে ছয় হাজার পরিবার। এরমধ্যে ১৬টি সরকারি আর ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন।

তবে মৃত্য ঝুঁকির পরেও কেনো পাহাড়ের পাদদেশে ঘর তুলছে মানুষ। অনেকে বাস করছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কেউ আবার মালিক বনে ঘর ভাড়া দিচ্ছেন। বসতি স্থাপনকারীরা বলছে, নদী ভাঙ্গা বা গৃহহীন মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছে। আর পাহাড়ে বাসা ভাড়া কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ এসে এখানে ঠাঁই নিয়েছে।

বসবাসকারীদের একজন বলেন, 'আমাদের বাসা বাড়ি নেই তাই পাহাড়ে থাকা। এখন যদি সরকার আমাদের একটা বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে এখানে থাকতে হতো না।' 

আরেকজন বলেন, 'আমরা এখানে বসবাস করছি ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে। এখন আমাদের জায়গাও নেই কই যাবো।'

চট্টগ্রামে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের এলাকায় গত ১৭ বছরে ঝড়েছে আড়াই শতাধিক প্রাণ। এরপরই বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন। উল্টো প্রভাবশালীদের লোভের শিকার হয়ে একে একে পাহাড় যেমন নিশ্চিহ্ন হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে প্রাণহানি।

শুধু কাঁচা ও সেমিপাকা নয়, নগরীর লালখান বাজারে মতিঝর্ণা, বাটালী পাহাড় ও টাংকির পাহাড়ে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। ৯০ ডিগ্রি খাড়া এসব পাহাড় যে কোন সময় ধসের ঝূঁকিতে থাকলেও প্রশাসনের চোখের সামনে বছরের পর বছর সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন সংস্থার পাহাড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা। এ সকল পাহাড়ে অবৈধভাবে দেয়া হয় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। প্রতি বছর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা বলা হলেও কার্যত বাস্তবায়ন হয় না ।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই গতানুগতিক মাইকিং, অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সরিয়ে দিয়ে দায় সারছে প্রশাসন। পাহাড় রক্ষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্তরা বলছেন, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে সর্বোচ্চ ১২৭ জনের প্রাণহানির পরে গঠন করা হয় শক্তশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি।  এই কমিটি ৩৬টি সুপারিশ করলে ও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে একটি সমীক্ষা করে পাহাড়গুলোর ধরণ অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ডিজাইনের মাধ্যমে পাহাড়গুলো রক্ষার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আলীউর রহমান বলেন, 'চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সিডিএ ও সিটি করপোরশনের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে কিভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ডিজাইনের মাধ্যমে পাহাড়গুলো কিভাবে রক্ষা করা যায় সেই ব্যবস্থা করা।' 

এদিকে ভারি বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে আছে তিন পার্বত্য জেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা। বিশেষ করে বান্দরবানে গত ৫ বছরে প্রাণহানি হয়েছে ৬৩ জনের। আর রাঙ্গামাটিতে গত ৮ বছরে নিহত হয়েছে ১৩১ জন। প্রতি বছর বর্ষা আসলেই প্রাণহানীর শংকা বাড়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের মাঝে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

বৃষ্টি শুরু হলেই মাঠে নামে প্রশাসন, পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং, আশ্রয়কেন্দ্র খোলাসহ নানা কার্যক্রম শুরু হয়। এবারও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর