দেশে এখন

প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব অনেক পরিবার

টাঙ্গাইলের চরপৌলিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ৩৫ বাড়ি যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। বন্যা শুরু হওয়ার আগেই তীব্র ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। আকষ্মিক এমন ভাঙনে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য বলছেন, ভাঙন রোধে আড়াইশ কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না বাঁধের মত করে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের চরপৌলি গ্রামের আব্দুল কাদের জিলানি। তিন দশকে ৪ বার ভিটে বাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন তিনি। গেল কয়েকদিন আগে যমুনার আকস্মিক ভাঙনে আবারও বিলীনের পথে তার বসতভিটে। সহায় সম্বল হারিয়ে যমুনার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর যেন কিছু করার নেই তার।

আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, 'আমাদের এই বাড়ি দাদার সম্পত্তি ছিল। সবকিছু ভেঙ্গে গিয়েছে।' 

শুধু আব্দুল কাদের নন, তার মতো নি:স্ব হয়েছে আরও ৩৫ পরিবার। ভাঙন আতঙ্কে আরও কয়েকশ মানুষ। যাদের কেউ আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে আবার কেউ থাকছেন অন্যের জমিতে। আর্থিক সহায়তা নয় বরং দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন বলেন, '৬ বার নদী ভাঙ্গনের পর এখন সরকারি জায়গার উপর এসে থাকছি। সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে।'

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ৩০ বছর যাবত কাকুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যমুনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় কিলোমিটার চরপৌলি গ্রাম যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, '৩ থেকে ৪ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়ে গেছে এখন মানুষের বসার মতো কোনো জায়গা নেই।' 

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, জিও ব্যাগ ফেলে যমুনার তীরে বাঁধের কাজ চলছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন হলে শুষ্ক মৌসুমে করা হবে উন্নয়ন কাজ। আর স্থানীয় সংসদ সদস্য বলছেন, বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় আড়াইশ কোটি টাকা ব্যয়ে চরপৌলী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'এই কাজটা হচ্ছে আমাদের এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা। ১৬শ’ ২৫ মিটারের মতো এখন কাজ বাকি রয়েছে যেখানে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন করবে।' 

টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, 'চরপৌলীতে ২৫০ কোটি টাকার একটা বাঁধের প্রকল্প পাস হয়েছে।' 

নাগরপুর থেকে চরপৌলী পর্যন্ত জিওব্যাগ ফেলে আর কালিহাতীর পাথরঘাট থেকে আলীপুর পর্যন্ত ব্লক দিয়ে যমুনার তীরে বেরিবাঁধ করা হয়। তবে মাঝখানে ১ হাজার ৬২৫ মিটার এলাকায় বাঁধ না থাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর