Recent event

নির্বাচনি জামানত কী? কেন এবং কীভাবে বাজেয়াপ্ত হয় প্রার্থীদের অর্থ?

জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন | ছবি: এখন টিভি
0

সদ্য সমাপ্ত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (13th National Parliamentary Election)। এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ, শাপলা কলি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, একটি বড় অংশের প্রার্থীর ভাগ্যে জুটেছে জামানত বাজেয়াপ্ত (Forfeiture of security deposit) হওয়ার গ্লানি। নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার আগে প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হয়, যা মূলত প্রার্থীর সিরিয়াসনেস বা গুরুত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

জামানত কী এবং কেন জমা দিতে হয়? (What is Election Security Deposit?)

নির্বাচনি জামানত (Election Security Deposit) হলো একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ, যা প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার (Returning Officer) কাছে জমা দিতে হয়। এটি ট্রেজারি চালান (Treasury Challan) বা তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার (Pay Order) হিসেবে জমা দেওয়া যায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে গুরুত্বহীন বা ‘নন-সিরিয়াস’ প্রার্থীর সংখ্যা কমানো।

আরও পড়ুন:

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নিয়ম (Rules of Forfeiture of Deposit)

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনি এলাকায় মোট কাস্টিং ভোটের (Total votes cast) একটি নির্দিষ্ট অংশ পেতে ব্যর্থ হন, তবে তার জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়।

সংসদ নির্বাচন (Parliamentary Election): বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ (12.5% of total votes) বা এক-অষ্টমাংশ না পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: উপজেলা, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই ধরনের শতকরা ভোটের হার প্রযোজ্য হয়।

নির্বাচনি জামানতের তালিকা (Security Deposit Amount List)

প্রার্থী হওয়ার জন্য বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়:

নির্বাচনের ধরন ও জামানতের পরিমাণ (Security Deposit List)

নির্বাচনের ধরন (Type of Election) পদের নাম (Post Name) জামানতের টাকা (Deposit Amount)
জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংসদ সদস্য (MP)২৫,০০০ টাকা
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনচেয়ারম্যান১০,০০০ টাকা
পৌরসভা নির্বাচনমেয়র (ভোটার ভেদে)১৫,০০০ - ৩০,০০০ টাকা
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনচেয়ারম্যান৯,৫০০ টাকা

আরও পড়ুন:

জামানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া (Refund Process of Deposit)

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর কমিশন জামানত হারানো প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে। যারা ন্যূনতম ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন, তারা গেজেট প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় আবেদন সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) অফিস থেকে তাদের অর্থ ফেরত নিতে পারেন। তবে তথ্যমতে, অনেক প্রার্থী জামানত রক্ষার মতো ভোট পেলেও পরবর্তীতে এই অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করেন না।

নির্বাচনি জামানত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQs on Election Security Deposit)

প্রশ্ন: নির্বাচনি জামানত বলতে কী বোঝায়? (What is Election Security Deposit?)

উত্তর: এটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রার্থীদেরকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা রাখতে হয়। এটি প্রার্থীর গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি আইনি প্রক্রিয়া।

প্রশ্ন: সংসদ নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ কত? (Amount of security deposit in JS election?)

উত্তর: বাংলাদেশে বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য একজন প্রার্থীকে ২৫,০০০ টাকা (25,000 Taka) জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়।

প্রশ্ন: জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া বলতে কী বোঝায়? (What is forfeiture of security deposit?)

উত্তর: যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তবে তার জমা দেওয়া অর্থ আর ফেরত দেওয়া হয় না; একেই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া বলে। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

প্রশ্ন: কত ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়? (How many votes are needed to save deposit?)

উত্তর: কোনো প্রার্থী যদি তার আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের (Total valid votes) সাড়ে ১২ শতাংশ বা ১/৮ অংশ (12.5% or 1/8th part) না পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

প্রশ্ন: জামানতের টাকা কোথায় জমা দিতে হয়? (Where to deposit the security money?)

উত্তর: জামানতের টাকা সরকারি ট্রেজারি (Government Treasury) বা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। এছাড়া পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডারও ব্যবহার করা যায়।

প্রশ্ন: জামানত বাজেয়াপ্তের টাকা কার অ্যাকাউন্টে যায়? (Where does the forfeited money go?)

উত্তর: বাজেয়াপ্ত হওয়া জামানতের টাকা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বা সরকারি কোষাগারে (Government Exchequer) জমা হয়।

প্রশ্ন: নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীও কি জামানত হারান? (Can a winning candidate lose deposit?)

উত্তর: না, বিজয়ী প্রার্থীর জামানত কখনোই বাজেয়াপ্ত হয় না, তিনি যত কম ভোটই পান না কেন।

প্রশ্ন: জামানত রক্ষার নিয়ম কেন তৈরি করা হয়েছে? (Why are there deposit forfeiture rules?)

উত্তর: যাতে অযোগ্য বা অনিচ্ছুক প্রার্থীরা স্রেফ প্রচারের জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে। এটি মূলত ‘নন-সিরিয়াস’ প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে করা হয়েছে।

প্রশ্ন: জামানতের টাকা কি নির্বাচনের পর ফেরত পাওয়া যায়? (Is the deposit refundable?)

উত্তর: হ্যাঁ, যদি কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট (১২.৫%) পান অথবা তিনি যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের মধ্যে নাম প্রত্যাহার করে নেন, তবে তিনি জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য হন।

প্রশ্ন: মনোনয়নপত্র বাতিল হলে কি জামানত ফেরত পাওয়া যায়? (Refund if nomination is rejected?)

উত্তর: হ্যাঁ, যদি বাছাইয়ের সময় কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল (Nomination rejection) হয়ে যায়, তবে তিনি তার জামানতের টাকা ফেরত পাবেন।

প্রশ্ন: উপজেলা বা পৌরসভা নির্বাচনে জামানত কত? (Deposit for local body elections?)

উত্তর: উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১০,০০০ টাকা এবং পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ভেদে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত জামানত দিতে হয়।

প্রশ্ন: জামানত ফেরত পেতে কোথায় আবেদন করতে হয়? (How to apply for a refund?)

উত্তর: নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিস বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।

প্রশ্ন: জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া কি সম্মানের হানি? (Is it a loss of dignity?)

উত্তর: রাজনৈতিকভাবে এটিকে পরাজয়ের চেয়েও বেশি গ্লানি হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি প্রমাণ করে প্রার্থী জনগণের ন্যূনতম সমর্থন পেতেও ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রশ্ন: ত্রয়োদশ নির্বাচনে কত শতাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে? (Forfeiture rate in 2026 election?)

উত্তর: ২০২৬ সালের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে (প্রাথমিক তথ্যমতে প্রায় ৭০-৭৫%), বিশেষ করে ছোট দল ও দুর্বল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটেছে।

প্রশ্ন: জামানত ফেরত পাওয়ার কোনো সময়সীমা আছে কি? (Deadline for refund?)

উত্তর: সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। অন্যথায় ওই অর্থ স্থায়ীভাবে সরকারের অধীনে চলে যেতে পারে।



এসআর