দেখতে নতুনের মতো হলেও, এগুলো আসলে বেশ পুরনো। তবে কমেনি কর্মক্ষমতা। উন্নত দেশে ব্যবহার করা এসব ডিভাইসের এখন বড় বাজার রাজধানীর প্রযুক্তির মার্কেটগুলো।
নতুন মেশিনের আকাশচুম্বী দামের কারণে, মধ্যবিত্ত ও তরুণ ক্রেতাদের বড় ভরসা এ রিকন্ডিশন্ড ল্যাপটপ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে, দিন দিন বাড়ছে এ করপোরেট গ্রেড ডিভাইসের চাহিদা।
ক্রেতারা জানান, নতুন ল্যাপটপ নিতে গেলে তাদের ১ লাখ থেকে ১ লাখের অধিক টাকা লাগে। তাই অল্প দামে ভালো কোয়ালিটির ল্যাপটপ এ মার্কেটে থেকে কেনেন।
একজন ল্যাপটপ বিক্রেতা বলেন, ‘কম টাকায় অনেকে বাজেটের মধ্যে ল্যাপটপগুলো খোঁজে। স্টুডেন্ট আছে, অফিসিয়াল লেভেলেও আছে, ইউজ করতে চায়, তাদের জন্যই আসলে এ ল্যাপটপগুলা।’
ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে বিক্রেতারাও দিচ্ছেন বিশেষ ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা। তবে বাজার বড় হওয়ার সাথে বাড়ছে উদ্বেগও। পণ্যের কর্মক্ষমতা, ব্যাটারির লাইফ কিংবা ভেতরের যন্ত্রাংশের মান নিয়ে, প্রায়ই অভিযোগ তুলছেন অনেকে।
একজন ল্যাপটপ বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা দুবাই থেকে, ইউরোপ থেকে বা অন্য অনেক দেশ যেমন চায়নার বিভিন্ন জায়গা থেকে কালেক্ট করি। এ ল্যাপটপগুলো মূলত ফুল ফ্রেশনেস হয় না। কিছু স্ক্র্যাচ থাকে, কিছু সমস্যা থাকে। অনেক সময় লট আকারে কিনতে হয়, সেখানে চেঞ্জ থাকে কিছু। অবশ্যই আমরা বাংলাদেশে যেগুলো বিক্রি করি এগুলো ফুল অথেনটিক বডি এবং প্রত্যেকটা বডির আমাদের প্রত্যেকটা ল্যাপটপের থাকে। কাস্টমারের কাছে যখন আমরা বিক্রি করি, তখন একটা রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে থাকি।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের রিকন্ডিশন্ড ল্যাপটপ কিনতে হবে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকার যদি সরকারি অফিসগুলাতে ইউজড ল্যাপটপের একটা প্রচলন, ব্যবহার শুরু করতো, তাহলে এক্ষেত্রে দুইটা ব্যাপারই— যেমন মানি সেভ হতো, প্লাস হচ্ছে আমাদের ল্যাপটপ ইউজের প্রচলনটা অনেক বেড়ে যেত।’
সস্তায় পুরনোর খোলস ছেড়ে ডানা মেলা এ প্রযুক্তি, রূপ নিয়েছে সম্ভাবনার। তবে চোরাই বা নকল পণ্য ক্রমবর্ধমান বাজারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।





