তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক দিন পর নানাবাড়িতে আসলাম। এখানে আসার পথে মনে পড়ছিল, সবচেয়ে প্রথম আমি এখানে এসেছিলাম ১৯৮৪ সালে, খুব সম্ভবত। তারপরে আসলাম ১৯৯১ সালে। তখন এই আপনাদের মেয়ে মরহুমা খালেদা জিয়াকে আপনারা নির্বাচিত করেছিলেন। উনার নির্বাচনের জন্য আমি নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে এই এলাকায় ছিলাম।’
উল্লেখ্য, সরকারপ্রধানের মা খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে ভোট করতেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সেখানে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ইস্কান্দার মজুমদারের নাতি তারেক রহমান বলছিলেন, ‘তখন এই রাস্তাটা (ফুলগাজী থেকে পরশুরাম সড়ক) ছিল না। এখানে অনেক মুরুব্বি আছে, তাদের মনে আছে এটা বালির রাস্তা ছিল। আমি সেই একদম উপজেলা থেকে শুরু করে দূরে বিডিআরের একটা ক্যাম্প ছিল, সেই ক্যাম্প পর্যন্ত আমি গিয়েছিলাম। আজকে আমার এই কথাটা মনে পড়ছিল।’
আরও পড়ুন:
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। ইস্কান্দার পরে জলপাইগুড়িতে বোনের বাসা থেকে পড়ালেখা করেন। সেখানে চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তা পাড়ের শহরটিতে। অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। দেশভাগের পর পরিবারটি দিনাজপুর শহরে স্থানান্তর হয়।
‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আজকে আবার বহু বছর পরে আল্লাহর রহমতে নানাবাড়িতে আসার সুযোগ হয়েছে। এই যে আসাটা, এখন তো আল্লাহ একটা দায়িত্ব দিয়েছে আপনাদের দোয়ায়। শুধু তো নানাবাড়ি বেড়াতে আসলে হবে না, কাজও করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাজ করবে দেশের মানুষের জন্য, কাজ করতে হবে দেশের জন্য। এখন কাজের অংশ হিসেবে এই মুহুয়া-কহুয়া খাল বা নদীটি খনন করার কাজে হাত দিয়েছি। এই খালটি কেন খনন করব? কী উপকার হবে?’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই খাল খনন করলে এই এলাকার মানুষের উপকার হবে। এই এলাকার সাড়ে ৪ লাখ মানুষের উপকার হবে। শুধু সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে না, প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক ভাইয়েরা তাদের সেচ সুবিধা তৈরি করতে পারবে। তার ফলে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন বেশি হবে। ফসলের উৎপাদন বেশি হলে কৃষকের লাভ হবে, ফসলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানাবাড়ির সকল সদস্যের কাছ থেকে আমি সেই দোয়া নিয়ে যেতে চাই, যে দোয়ায় আমি জনগণের কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়ন করতে পারব।’




