‘আমিও মরব, তোদেরও মারব’ বলে পেট্রোল ঢেলে আগুন, দগ্ধদের মধ্যে একজনের মৃত্যু

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট | ছবি: সংগৃহীত
0

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে ইমন (২৫) মারা গেছেন। আজ (রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিদ্দিক বেপারী (৬০), রাজিব (৩৮), আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও তানিয়া আক্তার (২০) দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তিতে পাশাপাশি বসবাস করেন তারা। শুক্রবার বাসার সামনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কার করা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা মোবাইল ফোনে বিষয়টি ইমনকে জানালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের ভাষ্য, শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মরব, তোদেরও মারব।’ এরপর তিনি নিজের কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।

হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ইমনের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমানের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়।

হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ইমনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেআর