চার বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তের খবরটি সবাইকে হতাশ করলেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল। আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নেয়ার খবরটির কোনো ভিত্তি নেই দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দেয়া বক্তব্যের রেশ ধরে মালয়েশিয়ার অবস্থান পরিস্কার করেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘মানবসম্পদমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, এটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে প্রতিনিধিত্ব করে না। সুতরাং, এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।’
মালয়েশিয়ার সরকার বলছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয় নির্ভর করছে তাদের বিভিন্ন খাতের চাহিদার ওপর। প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বিষয়টি মূল্যায়ন ও আলোচনা করা হবে। তবে ধীরে ধীরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় দেশটি।
এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার কাজ চলমান থাকলেও দেশটি থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পায়নি বাংলাদেশ।
কর্মীর গ্রহণের সংখ্যা, অভিবাসন ব্যয় ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে লিখিত পেলেই কেবল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব, বলছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তবে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবার সুযোগ তৈরি হলে বিগত সময়ে আটকে পড়া কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘সরকারের দিক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী প্রক্রিয়ায় কতজন লোক নেবে, সেটা লিখিতভাবে জানালে তখন আমরা সেই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করবো। তবে যখনই এই সুযোগটা আমাদের জন্য তৈরি হোক, সেক্ষেত্রে বিগত দিনে যারা আটকে পড়েছেন, যেতে পারেননি, তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে।’
জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের মতো শ্রমিক নিতে পারে মালয়েশিয়া। তবে কর্মী পাঠাতে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী হিসেবে নাম ঘোষণা করায় সিন্ডিকেট ফিরে আসার শঙ্কা করছেন তারা। আর এমনটি হলে জনপ্রতি কর্মীর অভিবাসন ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা।
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যে নির্ধারিত একটা রেট দিয়েছে, ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে লোক পাঠাবে, সেটা আদৌ কি সম্ভব? কারণ, ওনারা প্রতি জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা নেবে।’
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আকবর হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘কর্মীরা অতিরিক্ত টাকা দেবে, আগে যেমন ৪ থেকে ৫ লাখ ছিলো, সেটা ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি সরকার কোনো স্পেশাল মেকানিজম না করে, তাহলে এটা বাড়বেই। যাতে সবাই মিলে যার যার যোগ্যতা-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কম্পিটিশনের ব্যাসিসে যেন কর্মী পাঠাতে পারে, সে ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমিক রপ্তানি সংক্রান্ত সমঝোতার মেয়াদ এখনও চার মাস বাকি আছে। এর মধ্যে বিশেষ ঘোষণা ছাড়াই এই শ্রমবাজার নিয়ে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘আমরা যেন এমন একটা প্রক্রিয়ায় যাই, যেখানে আমরা দীর্ঘস্থায়ীভাবে বলতে পারি যে, এটা আমাদের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে। আমরা যেন উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি যে, মালয়েশিয়ায় যে প্রক্রিয়ায় আমরা করছি, এটা একটা ভালো উদাহরণ। বাংলাদেশের অন্যান্য করিডোরের ক্ষেত্রেও, এমনকি অন্যান্য দেশও আমাদের এটা অনুকরণ করে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা চলছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না ফিরলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা সহসা নাও কাটতে পারে।





