জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। সেই প্রসঙ্গে টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেয়া হলো।’
‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলো’— এই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
গতকাল (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়া দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ।’
আরও পড়ুন:
দুই বছর আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর বিএনপি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাশ করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। এটা আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’
একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানুষকে দমন-পীড়ন চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’





