আজ (মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাছির দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজের মেয়েকে ‘ব্রয়লার মুরগির মতো’ বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি তার মেয়েকে বলেছেন যে এখানকার বৃষ্টি-বাদলে ভিজলে যে একটু ব্রয়লার মুরগির মতো...। উনি উনার মেয়েকে বলেছেন, এটা উনি বলেছেন। এখন শিক্ষার্থীরা হয়তো এই কথাতে বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়েছে।’
‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যের প্রেক্ষাপট কী?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা সিটি কলেজের এক নারী পরীক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মোবাইল ফোন কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ওই পরীক্ষার্থীকে অভয় দিতে তার অভিভাবকের অনুরোধেই শিক্ষামন্ত্রী ফোন কলে কথা বলেন।
কথোপকথনের মূল অডিওতে শিক্ষামন্ত্রী ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ের উদাহরণ দিতে গিয়ে। তিনি ওই ছাত্রীকে বলছিলেন, ‘মিটিংয়ে একজন (কর্মকর্তা) বলছিলেন, ‘‘একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে।’’ তখন আমি বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি, একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসবে। এক দিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিন দিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’
‘আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম’
অডিওতে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হলো।’
এরপর ওপাশ থেকে শোনা যায়, ‘কিন্তু স্যার যাদের জ্বর হয়ে গেছে, আমরা তো সিটি কলেজের স্টুডেন্ট, যারা পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা দিনে বৃষ্টিতে ভিজছে, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি রাজি ছিলাম...অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম। যাই হোক তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। আশা করি ভালো হবে।’
পরীক্ষার রুটিন নিয়েও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হয়। বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে এক দিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে এক দিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? এক দিনে কি এতগুলো চ্যাপ্টার রিভাইস করা পসিবল স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে...যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’
জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করবো। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এমনিতেই তো রুটিন করা হচ্ছিল যে সকাল-বিকেল পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করবে। যেটা আমরাও ছাত্রজীবনে দিয়েছি। তখন আমি বললাম যে, এটা সম্ভব না। ওরা পারবে না, কষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত এক দিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হোক। সেটাই এখন নেয়া হচ্ছে। আমি সবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছি।
‘এগুলো বলে আর লাভ হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। নো বডি একসেপ্ট মি, যে পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে। তুমি তো সিটি কলেজ। চিন্তা কইরো না তো। এখন গরম এক কাপ কফি দিতে বলো, খেয়ে পড়তে বসে যাও।’
ছাত্রদলের অবস্থান ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবি
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘সারা দেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আমরাও (ছাত্রদল) গতকালই প্রেস রিলিজ দিয়ে সাময়িকভাবে পরীক্ষা স্থগিতকরণের দাবি জানিয়েছি।’
শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধি নির্বাচন করে আসুক, আমরা তাদের দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে যাবো। দাবি যেহেতু মানাই হচ্ছে, তাহলে রাস্তা কেন অবরোধ করতে হবে?’





