আজ (সোমবার, ২৯ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর বাজারে কোনো ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি।’
জনগণকে স্বস্তি দেয়ার সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় মোট ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে অন্যান্য বছরগুলোর মতো এই বছর বাজেটের আগে বা পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা কিছুটা হলেও দেশের সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে একাধারে অর্থনৈতিক সংকট, পূর্বের অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তবে এই বাজেট কেবল প্রচলিত কোনো বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত গড়ে তুলতে চায় সরকার।’
বাজেটের মূল দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। এটি মূলত দেশের খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার আর্থিক বোঝা লাঘব করার একটি কার্যকর বাজেট। নানামুখী সংকটে থাকা দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে পুনরায় শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য।’
জাতীয় সংসদের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছু বিষয়ে ঐকমত্য এবং কিছু বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে এই সংসদ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছে।’
সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যদিও আমরা চলতি সংসদে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার চেয়ে অতীত নিয়ে বেশি কথা বলেছি। তবে দেশের সাধারণ মানুষ চায় আমরা যেন অতীত ভুলে ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি কথা বলি এবং তাদের কল্যাণে কাজ করি।’





