মিছিলকে মবোক্রেসি আখ্যা দেয়ায় বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মবোক্রেসি এখন বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। এটাকে অসংসদীয় মনে করি না। আপনারাও এ বক্তব্য ব্যবহার করতে পারেন। গণতন্ত্রের বিপরীত শব্দ হিসেবে, এটা রাজনীতি নিন্দনীয় হতে পারে, অশ্লীল শব্দ নয়।’
গত ১১ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট উত্থাপনের সন্ধ্যায় তা প্রত্যাখান করে রাজধানীতিতে মিছিল করে জামায়াত। সরকারি দল বিএনপি বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করে। অতীতেও বাজেটের পক্ষে-বিপক্ষে সরকারি ও বিরোধীদলকে মিছিল করতে দেখা গেছে। তবে বিথিকা হোসাইন বিরোধীদলের এবারের মিছিলের সমালোচনা করেন।
তিনি বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ‘বিএনপি বিরোধী শিবিরও প্রস্তাবিত এ বাজেটকে চিন্তাশীল বলতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু সেখানে বিরোধীদলে যারা বসে আছেন, তারা কখনো বলার চেষ্টা করছেন ‘‘ছায়া বাজেট দিয়ে সাহায্য করেছেন’’; আবার দেখা যায় তারা বাজেট প্রকাশিত হওয়া অবস্থায় একটা ব্যানার নিয়ে ‘‘মানি না মানবো না’’ বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। এটা একটা মবোক্রেসি। কখনো বলছেন ‘‘গরিবের মারার বাজেট’’। কখনো বলছেন ‘‘বিনিয়োগের পরিবেশ নেই’’। আবার কখনো তারা গণতান্ত্রিক বাজেটে অনিয়ম লক্ষ্য করছেন।’
বাজেট প্রত্যাখান করে করা মিছিলকে মবোক্রেসি বলায় পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়ান শেরপুর-১ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত ইসলামী যে মিছিল করেছে, প্রতিবাদ করেছে, তাকে মবোক্রেসি বলা হয়েছে। শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।’ স্পিকার এ অনুরোধ নাকোচ করে বলেন, ‘মবোক্রেসি অশ্লীল শব্দ না।’
এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসলে মবোক্রেসি শব্দটা কোনো ভালো অর্থ বহন করে না। অবশ্যই আপত্তিকর শব্দ। কারণ এ ধরনের বাজেট প্রতিক্রিয়া আমরাই করিনি। বাজেটে প্রত্যাখান করে মিছিল অতীতে জামায়াতও করেছে, বিএনপিও করেছে। অনেকেই করেছে। তাইলে কি সবই মবোক্রেসি ছিল? শব্দটা এখানে বেমানান। এক্সপাঞ্জ করা উচিত।’ তবে স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার দাবিতেও সাড়া দেননি।





