তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবাধ তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো। মানুষ যেমন অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনি সঠিক তথ্য ছাড়া কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ টিকে থাকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘যিনি জানেন না অক্সিজেন কী, তিনি হয়তো এর অভাব বুঝবেন না। কিন্তু সচেতন সমাজ মাত্রই জানে, অক্সিজেনের ঘাটতি হলে সমাজ কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভরে যাবে। একইভাবে ভুল বা অপতথ্য সমাজকে বিষিয়ে তুলছে।’
বর্তমান ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাব রয়েছে। ডিজিটাল ঝুঁকি ও অপতথ্য এখন বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এটি মোকাবিলায় কেবল আইন নয়, বরং সৃজনশীল জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহির বড় অভাব রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তথ্যপ্রবাহকে অবাধ করার পাশাপাশি এর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য একটি উন্নত রেগুলেটরি সিস্টেমের প্রয়োজন। সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসক নয়, বরং একজন সার্ভিসিং ম্যানেজার হিসেবে তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে চায়।’
তথ্যমন্ত্রী জানান, সঠিক তথ্য ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার একটি টেকসই রূপরেখা বা রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ‘রিসোর্সফুল নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভাইজ।
সেমিনারে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। একদিকে মূলধারার সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ‘‘ফটো কার্ডের’’ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই অসম প্রতিযোগিতা ও অপতথ্য ছড়ানোর ফলে দিন শেষে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসইউর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিজে বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এস এম রেজওয়ান-উল-আলম। নির্ধারিত আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী এ এইচ এম বজলুর রহমান।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে দেশের সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।





