দেশের শ্রমিক শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | ছবি: বাসস
0

দেশের শ্রমিক শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (শুক্রবার, ১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ সারা বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছে। আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ব্যাংক বিভাগ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, অর্থনীতি তলানিতে নেমে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে শ্রমিক শ্রেণি সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। অথচ এই শ্রমিকরাই সবসময় পরিবর্তনের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। আজকের এই দিন সেই রক্তে লাল হয়ে থাকা মে দিবস।’

আরও পড়ুন:

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই অফিসের সামনেই ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর আমরা সমবেত হয়েছিলাম, যখন আমাদের সভা করতে দেয়া হচ্ছিল না। পুলিশ বাধা দিচ্ছিল এবং অতর্কিত হামলা চালায়। তখন প্রথম শহিদ হন মকবুল, একজন ওয়ার্কশপের শ্রমিক। আমাদের এই ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য শ্রমিক প্রাণ দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি কয়েক দিন আগে হকারদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি, কারণ এই মানুষগুলোই আমাদের আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ছিল। তাই আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি আপনি বিবেচনা করবেন। শ্রমিকদের সেই ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়টি আপনি দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে শ্রমিকদের সন্তানরা যেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পায়, সে বিষয়েও আপনি গুরুত্ব দেবেন। যার কাজ আপনি এরইমধ্যে শুরু করেছেন।’

আরও পড়ুন:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘চা-বাগানের শ্রমিকরা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

তিনি দেশের শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-যুবকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।—বাসস

এসএস