রাজধানীর আফতাবনগরের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম-সাদিয়া আক্তার দম্পতি জ্বালানি সংগ্রহে ৫ ঘণ্টা একটি পাম্পে সময় অতিক্রম করেছেন। আক্ষেপের মিশেলে বাস্তবতা তুলে ধরে জানালেন জ্বালানি সংগ্রহের পর সম্ভবত আজ আর বাসায় রান্নার সময় পাবেন না তারা।
রিয়াজুল-সাদিয়া দম্পতি জানান, বাসায় যেতেই মধ্যরাত হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় লাইনে দাঁড়িয়েছি এখনো তেল নিতে পারি নি।
তাদের মতন রোজ এমন অগণিত মানুষের ভিন্ন ভিন্ন গল্পের সূচনা হচ্ছে রাজধানীর ফিলিং স্টেশন গুলোতে। যদিও রেকর্ড পরিমাণ দাম বাড়ার পরও পাম্প গুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি মোটেও খুব একটা ছোট হয়নি, দিন গড়িয়ে রাত হচ্ছে শুধু কিন্তু দৃশ্য, প্রতিক্রিয়া,অভিযোগ একই রয়ে গেছে।
সরবরাহকারীরা জানান, দর বৃদ্ধি পেলেও হুড়োহুড়ি, আতঙ্ক কমেনি গ্রাহকের।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থিতিতে রবিবার রাতে বিপিসি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত জানায়,দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে ডিপো গুলো থেকে আরও বেশি করে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো হবে।
যদিও একাধিক ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন এই বিষয়ে অবগত নন বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেবেন তারা।
সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমার যেটা বরাদ্দ সেটার থেকে ২৫ শতাংশ বেশি পাওয়ার কথা আজকে থেকে। আজকে আমি পাই নি। হয়তো কালকে পাবো। বেশি দিলে হয়তো আমি পাবলিককে আরও বেশি দিতে পারবো। অথবা পাবলিককে যেভাবে রেশনিং করে দিতে পারছি সেভাবে আরও বেশি মানুষকে দিতে পারবো।’
এদিকে রবিবার রাতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বাস মালিক সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক বসেন। বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের প্রেক্ষিতে পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে।
তাদের মতামত ও সুপারিশসমূহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। জানান মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী যে কোন দিন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বিআরটিএর চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যে অসুবিধাটা হবে এটাও বিবেচনায় নিয়ে আমরা দুইটা বিষয় বিবেচনায় নিয়েছি। প্রতিটা আইটেম আমরা বিশ্লেষণ করেছি।’
সব দিক বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় থেকে আশা চূড়ান্ত নির্দেশনা দ্রুতই গণমাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানান বিআরটিএর চেয়ারম্যান।





