আজ (রোববার, ১৯ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা জানান চিফ হুইপ মনি।
তিনি বলেন, হাসান নাসিম তার পূর্বপরিচিত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের খবর দেখেছেন। যদি কেবল একটি কার্টুন আঁকা বা শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে সেটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি কার্টুন আঁকার কারণে বা শেয়ার করার কারণে হেনস্থার শিকার হতে পারে না।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘বরগুনা প্রতিবাদ’, ‘বরিশাল প্রতিদিন’, ‘বেতাগী প্রতিবাদ’, ‘পাথরঘাটা ডট কম’-সহ প্রায় ২০টি ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে তাকে, তার নির্বাচনি এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তার দাবি, নির্বাচনের আগে তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ভয়াবহ অপতথ্য ছড়ানো হয়। এর মধ্যে তাকে সাধারণ মানুষ হত্যা পরিকল্পনা, দলীয় নেতাকর্মী হত্যা পরিকল্পনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মতো অভিযোগে জড়ানো হয়।
চিফ হুইপ আরও বলেন, নির্বাচনের পরও প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১, ১৭ ও ২০ ডিসেম্বর তিন থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনেও বিষয়টি জানানো হয়।
মনি বলেন, যেহেতু কোনো ব্যক্তিকে আমি চিনি না বা আমার দল চেনে না, তাই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমি বা আমার কোনো লোক মামলা করিনি।
সম্প্রতি একটি আইডি বা পেজ থেকে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও পিরোজপুর সমিতির নাম ব্যবহার করে পাথরঘাটায় দুই ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ থাকবে না—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে স্থানীয় মৎস্য খাত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাসান নাসিম এসব আইডি বা পেজের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তার জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে থাকে এবং তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে জড়িত থাকেন, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা হোক।’
একই সঙ্গে ভুয়া পোর্টাল ও অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এসব পেজ বন্ধের দাবি জানান তিনি।
শেষে চিফ হুইপ বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং গুজব-বিদ্বেষমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান—এই তিনটির সমন্বয়েই একটি সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব।’





