জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘ডে-লাইট সেভিং’ পদ্ধতির প্রস্তাব

পাওয়ার গ্রিড
পাওয়ার গ্রিড | ছবি: এখন টিভি
0

জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে দিনের আলোভিত্তিক অর্থনীতি উত্তম বিকল্প হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে স্থায়ীভাবে এই নিয়ম বলবৎ রাখার কথা বলছেন তারা। ডে লাইট সেভিং পদ্ধতিতে যেতে পারলে দেশের হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে মত তাদের।

সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের যে সংকট চলছে, তা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও নিয়েছে নানান উদ্যোগ। যার মধ্যে ব্যাংকিং সময় এগিয়ে নেয়া, শপিংমলগুলো ৭টায় বন্ধ করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ। সরকারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উন্নয়ন বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্ত স্থায়ীভাবে বলবৎ রাখলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলে বলছেন তারা। গবেষণা বলছে, ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি চালু করতে পারলে ৮-১২ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। সেক্ষেত্রে দেশের বাঁচবে বছরে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষক ও শিক্ষক উমর ফারুক বলেন, ‘এই যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচবে, এ অর্থ কিন্তু আমরা পরবর্তীতে অন্য সুযোগ ব্যয়গুলোতে ব্যবহার করতে পারবো।’

তবে, এই অভ্যাস খুব চট করে আসবে না বলেও মনে করেন এই বিশ্লেষক। এতে সময় লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষক ও শিক্ষক উমর ফারুক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাতের চাকচিক্যভরা আলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের এ প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাসে অভ্যস্ত করে তোলা তাহলে আমরা দিনের আলোভিত্তিক যে অর্থনীতির কথা বলছি সেখানে যাওয়া সম্ভব।’

প্রতিবেশী নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি চালু আছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ জন্য সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা দরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যাটারিচালিত রিক্সাগুলো নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর তাদের।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিশ্লেষক ও শিক্ষক মহুয়া শবনম বলেন, ‘সরকার তো অনেক স্বল্পমেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করবে। কিন্তু এ পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়ন কে করবে? সরকার নিয়ম করবে কিন্তু পালন করতে হবে আমাদের।’

গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মতো দেশগুলো কর্মঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পেরেছে। আর ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি বাড়ালে শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

ইএ